ভারতে প্রথমবারের মতো প্রতি নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ‘প্রতিস্থাপন স্তর’-এর নিচে নেমে এসেছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ শ্রমশক্তি এবং অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছর ধরেই এই জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে জন্মহার কমার পেছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ বিদ্যমান। এর মধ্যে অন্যতম হলো নারীদের শিক্ষার প্রসার এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি। একই সাথে, পরিবার পরিকল্পনা ও আধুনিক গর্ভনিরোধক পদ্ধতির সহজলভ্যতাও জন্মহার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া, সন্তান লালন-পালনের ক্রমবর্ধমান খরচ, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অনেক পরিবারকে কম সন্তান নেওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিশুমৃত্যুর হার কমে যাওয়ায় অধিক সন্তান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও আগের মতো অনুভূত হচ্ছে না।
ভারতে জন্মহারে আঞ্চলিক বৈষম্যও স্পষ্ট। এসআরএস তথ্য অনুযায়ী, বিহারে জন্মহার প্রায় ২.৯ হলেও উত্তর প্রদেশে তা প্রায় ২.৬। অন্যদিকে, দিল্লি, কেরালা ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলোতে এই হার অনেক কম, যথাক্রমে প্রায় ১.২ এবং ১.৩। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পার্থক্য ভবিষ্যতে দেশের জনসংখ্যা বণ্টন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত বর্তমানে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। এই অনুকূল পরিস্থিতি ২০৫৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, জন্মহার দ্রুত কমতে থাকলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে, যা শ্রমঘাটতি এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসের মতো সমস্যার জন্ম দিতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 























