বিশেষ প্রতিবেদক
পাকিস্তানের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে এক গবেষকের বিশ্লেষণে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাঠানোর যৌক্তিকতা কতটুকু।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. নাদিম মাহমুদ এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় দাবি করেছেন, পাকিস্তান এখনো ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি। একই সঙ্গে দেশটির পাঠ্যপুস্তকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা শিক্ষা ও ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের নবম শ্রেণির ‘পাকিস্তান স্টাডিজ’ পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিতর্কিত বর্ণনা রয়েছে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে ষড়যন্ত্রমূলক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপো ২০২৬’-এ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তবে ড. নাদিম মাহমুদের মতে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচক পাকিস্তানের শিক্ষার মান সম্পর্কে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী পাকিস্তানের সাক্ষরতার হার বাংলাদেশের তুলনায় কম। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্তির হারেও বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক শিক্ষা সূচক এবং গবেষণা সক্ষমতার বিভিন্ন মানদণ্ডেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো বলে দাবি করা হয়েছে।
গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে পার্থক্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, বাংলাদেশের গবেষণা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও চীনের মতো দেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের গবেষণা সহযোগিতার বড় অংশ একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল।
ড. নাদিম মাহমুদের মতে, উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা সাধারণত এমন দেশ বেছে নেয়, যেখানে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সুযোগ বেশি। তাই পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক গবেষণা ও পেশাগত সুযোগের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর, সে বিষয়েও গভীর মূল্যায়ন প্রয়োজন।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য বিদেশমুখী নির্ভরতার পরিবর্তে নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপ, মালয়েশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষণের শেষাংশে তিনি বলেন, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টি একদিকে থাকলেও শিক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিহাস, গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষা-সংক্রান্ত যেকোনো নীতি বা উদ্যোগ গ্রহণের আগে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 

























