ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

বুধবার বিকেলে অভিযোগটি তদন্তের জন্য যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সাত সদস্যের একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক মোছা: তাসলিমা খাতুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসেজ আদান-প্রদানের প্রমাণপত্রসহ যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম প্রথমে তার সঙ্গে ভালো আচরণ করলেও পরবর্তীতে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। তিনি সরাসরি গণমাধ্যমকে জানান, ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পরদিনই অধ্যাপক তার সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান শুরু করেন এবং বার্তাগুলো ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তিনি একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য তিনি এগিয়ে এসেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন চুরি হয়ে গিয়েছিল এবং এরপর থেকে তিনি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হলেও ফোনটি এখনো উদ্ধার হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি তাসলিমা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং তদন্তের জন্য জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খান জানিয়েছেন, ডিনদের সঙ্গে বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে অপরাধ দমনে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ০৮:০০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

বুধবার বিকেলে অভিযোগটি তদন্তের জন্য যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সাত সদস্যের একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক মোছা: তাসলিমা খাতুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসেজ আদান-প্রদানের প্রমাণপত্রসহ যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম প্রথমে তার সঙ্গে ভালো আচরণ করলেও পরবর্তীতে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। তিনি সরাসরি গণমাধ্যমকে জানান, ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পরদিনই অধ্যাপক তার সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান শুরু করেন এবং বার্তাগুলো ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তিনি একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য তিনি এগিয়ে এসেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন চুরি হয়ে গিয়েছিল এবং এরপর থেকে তিনি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হলেও ফোনটি এখনো উদ্ধার হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি তাসলিমা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং তদন্তের জন্য জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খান জানিয়েছেন, ডিনদের সঙ্গে বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।