ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বিরোধী দলের আসনগুলোতে টিআর-কাবিখা বরাদ্দ না যাওয়ার অভিযোগ: সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ

দেশের দুর্যোগের মানচিত্র সরকারি ও বিরোধী দলের জন্য আলাদাভাবে তৈরি হচ্ছে কিনা, জাতীয় সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে যে টিআর-কাবিখা (Tr&Khabikha) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আসনগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের ফ্লোর নিয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের দুর্যোগের ম্যাপে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে? কারণ আমরা দেখলাম, গত ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতে গেছে। বিরোধী দলের কোনো আসনে ওই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি এমন হয়ে থাকে যে দুর্যোগ শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতেই আসবে, বিরোধী দলের আসনগুলোতে আসবে না, তাহলে ভিন্ন কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দুর্যোগ এলে তো সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

ত্রাণ বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আখতার হোসেন বলেন, গত ৩০ এপ্রিল ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন করে চাল-গম শুধু সরকারি দলের এমপিদের আসনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের কোনো আসন এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘জনগণের করের টাকা থেকে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে বিরোধী দলের আসনের সাধারণ মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।’ তিনি জানতে চান, কবে নাগাদ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদেরও সমতাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘যদি অভিযোগটি সত্য হয়, তাহলে তা অবশ্যই অনুচিত। মাননীয় মন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করবেন বলে আশা করছি।’

জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, যেসব সংসদ সদস্য চাহিদাপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁরা আগামী কাল-পরশুর মধ্যেই বরাদ্দ পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকদের কাছেও নগদ অর্থ ও চালের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেসব এমপি আমাদের কাছে চাহিদাপত্র দেন, তাদের আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

বিরোধী দলের আসনগুলোতে টিআর-কাবিখা বরাদ্দ না যাওয়ার অভিযোগ: সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ

আপডেট সময় : ০৭:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

দেশের দুর্যোগের মানচিত্র সরকারি ও বিরোধী দলের জন্য আলাদাভাবে তৈরি হচ্ছে কিনা, জাতীয় সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে যে টিআর-কাবিখা (Tr&Khabikha) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আসনগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের ফ্লোর নিয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের দুর্যোগের ম্যাপে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে? কারণ আমরা দেখলাম, গত ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতে গেছে। বিরোধী দলের কোনো আসনে ওই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি এমন হয়ে থাকে যে দুর্যোগ শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতেই আসবে, বিরোধী দলের আসনগুলোতে আসবে না, তাহলে ভিন্ন কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দুর্যোগ এলে তো সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

ত্রাণ বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আখতার হোসেন বলেন, গত ৩০ এপ্রিল ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন করে চাল-গম শুধু সরকারি দলের এমপিদের আসনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের কোনো আসন এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘জনগণের করের টাকা থেকে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে বিরোধী দলের আসনের সাধারণ মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।’ তিনি জানতে চান, কবে নাগাদ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদেরও সমতাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘যদি অভিযোগটি সত্য হয়, তাহলে তা অবশ্যই অনুচিত। মাননীয় মন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করবেন বলে আশা করছি।’

জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, যেসব সংসদ সদস্য চাহিদাপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁরা আগামী কাল-পরশুর মধ্যেই বরাদ্দ পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকদের কাছেও নগদ অর্থ ও চালের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেসব এমপি আমাদের কাছে চাহিদাপত্র দেন, তাদের আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি।’