ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বাজেটের অর্থ অপচয় ও ছলচাতুরির অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশের জনগণের দেওয়া করের টাকায় প্রণীত বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি, টালবাহানা, অপচয় এবং যথেচ্ছ খরচ করার অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিবন্ধিত করদাতাদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকরাও দৈনন্দিন ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন সেবার বিপরীতে কর প্রদান করে থাকেন।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আগামী অর্থ বছরের বাজেট; আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, সরকার প্রতিবছর বাজেট পেশ ও পাশ করলেও এর বাস্তবায়নে যথাযথ নজরদারি, সততা ও জবাবদিহিতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। ফলে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ অপচয় হয় এবং ক্রয় দুর্নীতির মাধ্যমে পাচার হয়ে যায়। এই ধারা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। জনগণের করের টাকায় বাজেট প্রণয়ন হয় এবং ঋণও জনগণের ওপরই চাপানো হয়। কিন্তু জনগণ এই বাজেটের সুবিধা কতটা পাচ্ছে, তা বিবেচনায় নেওয়া হয় না। দুর্নীতিগ্রস্ত সামগ্রিক ব্যবস্থার কারণে বাজেটে ঘোষিত সুবিধাদি জনগণের কাছে পৌঁছায় না। তাই বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হতে হলে শুধু নীতি নয়, নেতাদেরও পরিবর্তন আনা জরুরি।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ড. আফম খালিদ হোসেন কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার জন্য উপবৃত্তি, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান। তিনি আমলাতন্ত্রের জটিলতার কারণে কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এবং এই জটিলতা নিরসনে শরিয়াহ-ভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। গোলটেবিল বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ডক্টর আফম খালিদ হোসেন, বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ, চর্চার সম্পাদক সোহবার হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, ক্যাবের কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার এম এ এম গোলাম কিবরিয়া, ইসলামিক চেম্বার অব কমার্সের সদস্য সচিব মাওলানা মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

বাজেটের অর্থ অপচয় ও ছলচাতুরির অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি: চরমোনাই পীর

আপডেট সময় : ০৬:০৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশের জনগণের দেওয়া করের টাকায় প্রণীত বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি, টালবাহানা, অপচয় এবং যথেচ্ছ খরচ করার অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিবন্ধিত করদাতাদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকরাও দৈনন্দিন ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন সেবার বিপরীতে কর প্রদান করে থাকেন।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আগামী অর্থ বছরের বাজেট; আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, সরকার প্রতিবছর বাজেট পেশ ও পাশ করলেও এর বাস্তবায়নে যথাযথ নজরদারি, সততা ও জবাবদিহিতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। ফলে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ অপচয় হয় এবং ক্রয় দুর্নীতির মাধ্যমে পাচার হয়ে যায়। এই ধারা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। জনগণের করের টাকায় বাজেট প্রণয়ন হয় এবং ঋণও জনগণের ওপরই চাপানো হয়। কিন্তু জনগণ এই বাজেটের সুবিধা কতটা পাচ্ছে, তা বিবেচনায় নেওয়া হয় না। দুর্নীতিগ্রস্ত সামগ্রিক ব্যবস্থার কারণে বাজেটে ঘোষিত সুবিধাদি জনগণের কাছে পৌঁছায় না। তাই বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হতে হলে শুধু নীতি নয়, নেতাদেরও পরিবর্তন আনা জরুরি।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ড. আফম খালিদ হোসেন কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার জন্য উপবৃত্তি, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান। তিনি আমলাতন্ত্রের জটিলতার কারণে কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এবং এই জটিলতা নিরসনে শরিয়াহ-ভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। গোলটেবিল বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ডক্টর আফম খালিদ হোসেন, বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ, চর্চার সম্পাদক সোহবার হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, ক্যাবের কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার এম এ এম গোলাম কিবরিয়া, ইসলামিক চেম্বার অব কমার্সের সদস্য সচিব মাওলানা মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।