হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এই সংঘর্ষ শুরু হয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চলাকালে বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার অবর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান কপিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে চাইলে মিজানুর রহমান কপিল তাতে আপত্তি জানান। এই ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফরিদ আহমদ ও মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর জেরে ফরিদ আহমদের সমর্থক নোয়াগাঁও ও কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এবং কপিলের সমর্থক হলদারপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এতে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ আশেপাশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ জানান, চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের পূর্ববিরোধের জেরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















