গণহত্যা মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। যখন কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী ক্ষমতার মদমত্ততায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা আদর্শিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর পদ্ধতিগত নিধনযজ্ঞ চালায়, তখন তা মানবতাবিরোধী চরম ধৃষ্টতা হিসেবে গণ্য হয়।
ইতিহাসের পাতায় এমন অনেক প্রতাপশালী রাজনৈতিক সংগঠনের নাম রয়েছে, যারা নিজেদের অজেয় মনে করলেও শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। এ ধরনের অপরাধী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা একটি বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও আইনি সংস্কৃতি, যার মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের সুফল নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের নৃশংসতা রোধ করা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর ১৯৪৫ সালে মিত্রশক্তি নিষিদ্ধ করে হিটলারের নাজি পার্টি। ১৯৪৬ সালের ঐতিহাসিক ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের মাধ্যমে দলটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পল পটের নেতৃত্বে খেমার রুজ ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে প্রায় ১৭ থেকে ২০ লাখ মানুষকে হত্যা করে, যা দেশটির জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ ছিল। তথাকথিত ‘বিশুদ্ধ সমাজ’ গড়ার নামে এই নৃশংসতা চালানো হয়। ১৯৭৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটি নিষিদ্ধ হয় এবং পরে বিশেষ আদালতের মাধ্যমে শীর্ষ নেতাদের বিচার নিশ্চিত করা হয়। ১৯৯৪ সালে মাত্র ১০০ দিনে আট লাখ তুতসি এবং মডারেট হুতু সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যার পেছনে কলকাঠি নেড়েছিল তৎকালীন শাসক দল এমআরএনডি। গণহত্যার পর রুয়ান্ডান প্যাট্রিক ফ্রন্ট ক্ষমতায় এসে দলটিকে নিষিদ্ধ করে।
গত সাড়ে ১৩ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে এক অঘোষিত যুদ্ধ পরিচালনা করেছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে যে নজিরবিহীন গণহত্যা ও নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার লালসায় নিরপরাধ ছাত্র, শিশু এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে কয়েক হাজার প্রাণ কেড়ে নেওয়া এবং হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনাটি কোনোভাবেই নিছক রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যা। তবে এই নৃশংসতার বীজ বপন কর
রিপোর্টারের নাম 



















