ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: জেল থেকে আসামিদের পুশ-ইন করার চেষ্টা বিএসএফের!

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই সীমান্ত রাজনীতিতে এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে যেমন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের তাড়ানোর দাবি উঠছে, অন্যদিকে সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেওয়া এবং বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।

সমালোচকদের মতে, সরকার গঠনমূলক কাজের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ভোটব্যাংককে সন্তুষ্ট রাখার জন্য এই ধরনের রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবরটি উঠে এসেছে সীমান্ত অঞ্চল থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পর্যাপ্ত বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী খুঁজে না পাওয়ায় প্রশাসন এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। জনগণের মন রক্ষার্থে কারাবন্দি আসামিদের জেল থেকে বের করে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করা হচ্ছে এবং অত্যন্ত গোপনে তাদের বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার চেষ্টা চলছে। যদিও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এই ধরনের পদক্ষেপ কঠোরভাবে প্রতিহত করছে, যার ফলে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বিজিবির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, পুশ ইন করতে ব্যর্থ হলে কয়েকদিন পর সেই আসামিদের পুনরায় লোকালয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

এই সীমান্ত উত্তেজনার পাশাপাশি আরও কিছু গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের তথ্য উঠে আসছে। এক প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একদিকে শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠরা ভারতের নিউটাউন বা দিল্লির মতো জায়গায় নিরাপদ আশ্রয় নিচ্ছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লি বর্তমানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে তত্পর না হলেও, সীমান্ত দিয়ে কিছু প্রশিক্ষিত চরকে সে দেশে অনুপ্রবেশ করানো হচ্ছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ।

ওই প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিস্ফোরক দাবি, অমিত শাহের নেতৃত্বে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচ্ছন্ন সমর্থনে বাংলাদেশের চট্টগ্রামকে আলাদা করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরির গোপন নীলনকশাও প্রস্তুত করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে পুলিশের বড় অভিযান: ৪২ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

পশ্চিমবঙ্গে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: জেল থেকে আসামিদের পুশ-ইন করার চেষ্টা বিএসএফের!

আপডেট সময় : ১০:০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই সীমান্ত রাজনীতিতে এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে যেমন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের তাড়ানোর দাবি উঠছে, অন্যদিকে সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেওয়া এবং বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।

সমালোচকদের মতে, সরকার গঠনমূলক কাজের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ভোটব্যাংককে সন্তুষ্ট রাখার জন্য এই ধরনের রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবরটি উঠে এসেছে সীমান্ত অঞ্চল থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পর্যাপ্ত বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী খুঁজে না পাওয়ায় প্রশাসন এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। জনগণের মন রক্ষার্থে কারাবন্দি আসামিদের জেল থেকে বের করে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করা হচ্ছে এবং অত্যন্ত গোপনে তাদের বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার চেষ্টা চলছে। যদিও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এই ধরনের পদক্ষেপ কঠোরভাবে প্রতিহত করছে, যার ফলে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বিজিবির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, পুশ ইন করতে ব্যর্থ হলে কয়েকদিন পর সেই আসামিদের পুনরায় লোকালয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

এই সীমান্ত উত্তেজনার পাশাপাশি আরও কিছু গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের তথ্য উঠে আসছে। এক প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একদিকে শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠরা ভারতের নিউটাউন বা দিল্লির মতো জায়গায় নিরাপদ আশ্রয় নিচ্ছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লি বর্তমানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে তত্পর না হলেও, সীমান্ত দিয়ে কিছু প্রশিক্ষিত চরকে সে দেশে অনুপ্রবেশ করানো হচ্ছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ।

ওই প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিস্ফোরক দাবি, অমিত শাহের নেতৃত্বে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচ্ছন্ন সমর্থনে বাংলাদেশের চট্টগ্রামকে আলাদা করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরির গোপন নীলনকশাও প্রস্তুত করা হয়েছে।