ঢাকা ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

পল্লবী রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ: আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার রায় আজ রোববার ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বেলা ১১টার দিকে এই রায় ঘোষণা করা হবে। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রধান আসামি সোহেল রানার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর আসামি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় লঘুদণ্ডের আবেদন করেন।

প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে নিজের ফ্ল্যাটের বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং পরে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, জেরা এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে।

তবে আসামিপক্ষের যুক্তি, মামলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। যদিও প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তার জন্য মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত, ভারতে পালাল

পল্লবী রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ: আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ১১:০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার রায় আজ রোববার ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বেলা ১১টার দিকে এই রায় ঘোষণা করা হবে। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রধান আসামি সোহেল রানার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর আসামি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় লঘুদণ্ডের আবেদন করেন।

প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে নিজের ফ্ল্যাটের বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং পরে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, জেরা এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে।

তবে আসামিপক্ষের যুক্তি, মামলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। যদিও প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তার জন্য মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে।