ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

বেসরকারি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের জন্য অনলাইনে বদলির সুযোগ

নিজ জেলা বা বা উপজেলা, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং দূরত্ব বিবেচনায় দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন করে বদলির সুযোগ পাচ্ছেন।
বিগত আওয়মী লীগ সরকারের সময় থেকে বদলি নীতিমালা করার পরও শিক্ষকেরা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬ (সংশোধিত) নীতিমালা প্রকাশ করে। তবে এখনও বদলি কার্যক্রম শুরু হয়নি।
এরপর গত ২০ মে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরে বেসরকারি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী বদলি নীতিমালা জারি করে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচলিত হবে।
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের জারি করা ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’-তে বলা হয়, এই নীতিমালার কার্যকারিতা সরকার আলাদা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষকের জন্য এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের বিবরণ সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করবে। সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক-সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য সব শিক্ষকের সমপদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতি বছর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকার নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে বদলি আবেদনের প্রেক্ষিতে আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃঅঞ্চল বদলির সিদ্ধান্ত কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
আবেদনকারী শিক্ষক তার চাকুরির আবেদনে উল্লিখিত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনও জেলায় আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলায় বদলির আবেদনের সুযোগ থাকবে।
দুই বছর পূর্ণ হলে বদলি চাকরি জীবনে তিনবার সুযোগ
প্রথম যোগদানের পর চাকুরির বয়স দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন। একজন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
নারী, দুরত্ব ও স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল অগ্রধাকিার পাবে
একটি শূন্য পদের জন্য একাধিক আবেদন পাওয়া গেলে অগ্রাধিকারের ক্রমানুসারে (ক) নারী, (খ) দূরত্ব, (গ) স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল এবং (ঘ) জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা করা হবে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুই জন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন।
বদলির সমগ্র প্রক্রিয়া নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। বদলিকৃত শিক্ষক ও কর্মচারীর এমপিও ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি পূর্ববৎ বজায় থাকবে।
বদলির আবেদনের ভিত্তিতে বদলি অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না। বদলিকৃত শিক্ষক বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য কোনও ধরনের টিএ-ডিএ পাবেন না। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বদলিকৃত শিক্ষকের অবমুক্তি নিশ্চিত করবেন। কোনও শিক্ষক এমপিও স্থগিত (স্টপ পেমেন্ট), সাময়িক বরখাস্ত ও ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির যোগ্য হবেন না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তহবিল সংকটে গভীর হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট, বিশ্ববাসীকে নতুন সতর্কবার্তা ইউএনএইচসিআরের

বেসরকারি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের জন্য অনলাইনে বদলির সুযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

নিজ জেলা বা বা উপজেলা, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং দূরত্ব বিবেচনায় দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন করে বদলির সুযোগ পাচ্ছেন।
বিগত আওয়মী লীগ সরকারের সময় থেকে বদলি নীতিমালা করার পরও শিক্ষকেরা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬ (সংশোধিত) নীতিমালা প্রকাশ করে। তবে এখনও বদলি কার্যক্রম শুরু হয়নি।
এরপর গত ২০ মে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরে বেসরকারি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী বদলি নীতিমালা জারি করে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচলিত হবে।
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের জারি করা ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’-তে বলা হয়, এই নীতিমালার কার্যকারিতা সরকার আলাদা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষকের জন্য এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের বিবরণ সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করবে। সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক-সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য সব শিক্ষকের সমপদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতি বছর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকার নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে বদলি আবেদনের প্রেক্ষিতে আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃঅঞ্চল বদলির সিদ্ধান্ত কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
আবেদনকারী শিক্ষক তার চাকুরির আবেদনে উল্লিখিত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনও জেলায় আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলায় বদলির আবেদনের সুযোগ থাকবে।
দুই বছর পূর্ণ হলে বদলি চাকরি জীবনে তিনবার সুযোগ
প্রথম যোগদানের পর চাকুরির বয়স দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন। একজন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
নারী, দুরত্ব ও স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল অগ্রধাকিার পাবে
একটি শূন্য পদের জন্য একাধিক আবেদন পাওয়া গেলে অগ্রাধিকারের ক্রমানুসারে (ক) নারী, (খ) দূরত্ব, (গ) স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল এবং (ঘ) জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা করা হবে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুই জন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন।
বদলির সমগ্র প্রক্রিয়া নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। বদলিকৃত শিক্ষক ও কর্মচারীর এমপিও ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি পূর্ববৎ বজায় থাকবে।
বদলির আবেদনের ভিত্তিতে বদলি অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না। বদলিকৃত শিক্ষক বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য কোনও ধরনের টিএ-ডিএ পাবেন না। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বদলিকৃত শিক্ষকের অবমুক্তি নিশ্চিত করবেন। কোনও শিক্ষক এমপিও স্থগিত (স্টপ পেমেন্ট), সাময়িক বরখাস্ত ও ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির যোগ্য হবেন না।