সরকারি চাকরির বাজারে ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদটি বর্তমানে একটি দারুণ আকর্ষণীয় অবস্থানে রয়েছে। তুলনামূলক সহজ শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং জনসেবার সুযোগের কারণে প্রতিটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেই এই পদে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে, যার ফলে প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। তাই পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা না করে এখন থেকেই সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু কারণ বিদ্যমান। প্রথমত, এটি একটি স্থায়ী সরকারি চাকরি, যেখানে নিয়মিত বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, উৎসব-ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা এবং অবসরকালীন সুবিধাদি এটিকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দ্বিতীয়ত, সাধারণত এইচএসসি বা সমমান পাস হলেই আবেদন করার সুযোগ থাকায় দেশের বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী এই পদে আবেদন করতে পারেন। তৃতীয়ত, এই পদের মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ থাকে, ফলে অনেকেই এটিকে সম্মানজনক ও সেবাধর্মী পেশা হিসেবে বিবেচনা করেন। চতুর্থত, কর্মস্থল সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে হওয়ায় পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা তুলনামূলক সহজ হয়। পঞ্চমত, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহও বাড়ছে, যা সীমিতসংখ্যক পদের বিপরীতে তীব্র প্রতিযোগিতার জন্ম দিচ্ছে।
ইউনিয়ন সমাজকর্মী মূলত সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের একজন সরকারি কর্মী। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও উন্নয়নমূলক সেবা তৃণমূলপর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের প্রধান দায়িত্ব। এর মধ্যে রয়েছে বয়স্ক-ভাতা, বিধবা-ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা-ভাতা এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধী-ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা। এছাড়াও পল্লি সমাজসেবা এবং অন্যান্য দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচন, ঋণ বিতরণ ও তদারকির কাজে তারা যুক্ত থাকেন। প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ, পরিচয়পত্র প্রদান এবং শিক্ষা উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রমেও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে। অ্যাসিডদগ্ধ, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোও তাদের কাজের অংশ।
রিপোর্টারের নাম 

























