ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

স্পেনে দুই হাজার বছরের পুরোনো রোমান স্বর্ণখনির সন্ধান

স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সেরদানিয়া উপত্যকার পাহাড়ি এলাকায় প্রাচীন রোমান সভ্যতার এক বিশাল স্বর্ণখনির নিদর্শন খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। প্রায় দুই হাজার বছর আগের এই খনিটি তৎকালীন প্রকৌশলীদের উন্নত বুদ্ধিমত্তা ও জলচালিত খনন প্রযুক্তির এক অনন্য উদাহরণ। আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই রোমানরা কীভাবে কয়েক মিলিয়ন টন মাটি সরিয়ে স্বর্ণ উত্তোলন করত, এই আবিষ্কার তার প্রমাণ দেয়।

গবেষকদের মতে, এলাকাটি প্রথম দর্শনে স্বাভাবিক পাহাড় মনে হলেও সেখানে সরু পরিখা, কাটা ঢাল ও সুপরিকল্পিত খননক্ষেত্রের অস্তিত্ব রয়েছে। বিশেষ করে ৩০০ মিটার প্রশস্ত একটি বৃত্তাকার খনন এলাকা প্রত্নতাত্ত্বিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। খনিশ্রমিকরা এখানে গভীর সুড়ঙ্গ খননের পরিবর্তে জলচালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করতেন। তারা বড় বড় জলাধার তৈরি করে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ পানি খালপথে স্বর্ণসমৃদ্ধ মাটির ওপর প্রবাহিত করতেন। পানির তোড়ে মাটি ও শিলা সরে গেলে নিচে পড়ে থাকা স্বর্ণকণা সংগ্রহ করা হতো।

খননকার্যের সময় গবেষকরা ৪ দশমিক ৫ মিটার চওড়া ও ১ দশমিক ৫ মিটার গভীর একটি প্রাচীন জলাধারের সন্ধান পেয়েছেন, যা পাথর দিয়ে নির্মিত বাঁধ দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষ দিক থেকে তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে এই খনিটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার মাটি অপসারণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদি হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে বিস্ফোরক দাবি মমতার, ‘চুপ থাকতে বলেছিলেন অমিত শাহ’

স্পেনে দুই হাজার বছরের পুরোনো রোমান স্বর্ণখনির সন্ধান

আপডেট সময় : ১০:০৮:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সেরদানিয়া উপত্যকার পাহাড়ি এলাকায় প্রাচীন রোমান সভ্যতার এক বিশাল স্বর্ণখনির নিদর্শন খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। প্রায় দুই হাজার বছর আগের এই খনিটি তৎকালীন প্রকৌশলীদের উন্নত বুদ্ধিমত্তা ও জলচালিত খনন প্রযুক্তির এক অনন্য উদাহরণ। আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই রোমানরা কীভাবে কয়েক মিলিয়ন টন মাটি সরিয়ে স্বর্ণ উত্তোলন করত, এই আবিষ্কার তার প্রমাণ দেয়।

গবেষকদের মতে, এলাকাটি প্রথম দর্শনে স্বাভাবিক পাহাড় মনে হলেও সেখানে সরু পরিখা, কাটা ঢাল ও সুপরিকল্পিত খননক্ষেত্রের অস্তিত্ব রয়েছে। বিশেষ করে ৩০০ মিটার প্রশস্ত একটি বৃত্তাকার খনন এলাকা প্রত্নতাত্ত্বিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। খনিশ্রমিকরা এখানে গভীর সুড়ঙ্গ খননের পরিবর্তে জলচালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করতেন। তারা বড় বড় জলাধার তৈরি করে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ পানি খালপথে স্বর্ণসমৃদ্ধ মাটির ওপর প্রবাহিত করতেন। পানির তোড়ে মাটি ও শিলা সরে গেলে নিচে পড়ে থাকা স্বর্ণকণা সংগ্রহ করা হতো।

খননকার্যের সময় গবেষকরা ৪ দশমিক ৫ মিটার চওড়া ও ১ দশমিক ৫ মিটার গভীর একটি প্রাচীন জলাধারের সন্ধান পেয়েছেন, যা পাথর দিয়ে নির্মিত বাঁধ দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষ দিক থেকে তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে এই খনিটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার মাটি অপসারণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।