ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

লেবাননে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আশাবাদের কারণে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই তেলের দাম যথাক্রমে ১.৮% ও ১.৭% হ্রাস পেয়েছিল। তবে, লেবাননে ইসরায়েলের নতুন সামরিক পদক্ষেপ ইরান যুদ্ধ অবসানের আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালীর স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং জর্ডান ও ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে অ্যাডাম ক্লেমেন্টস বলেছেন, ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ উল্টো ফলও দিতে পারে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি সামরিক চাপ ইরানে জাতীয়তাবাদী চেতনাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে, যেখানে সরকারবিরোধী বা নিরপেক্ষ অবস্থানকারীরাও বিদেশি সামরিক চাপের মুখে জাতীয়তাবাদের পক্ষে দাঁড়াতে পারেন।

এদিকে, উত্তর ইসরায়েলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি প্রতিহত করা হয়েছে। অন্যটি প্রতিহত করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও, দক্ষিণ লেবানন থেকে আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে ইসরায়েল জানিয়েছে। এর মধ্যে একটি দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর কাছাকাছি পড়েছে, অন্যটি খোলা জায়গায় আঘাত হেনেছে।

আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও লেবাননের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে ইসরায়েলকে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য করা হয় এবং ২০০৬ সালের জাতিসংঘের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণীদের উত্ত্যক্ত করায় তিন যুবকের চুল কেটে দিল জনতা

লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

লেবাননে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আশাবাদের কারণে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই তেলের দাম যথাক্রমে ১.৮% ও ১.৭% হ্রাস পেয়েছিল। তবে, লেবাননে ইসরায়েলের নতুন সামরিক পদক্ষেপ ইরান যুদ্ধ অবসানের আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালীর স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং জর্ডান ও ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে অ্যাডাম ক্লেমেন্টস বলেছেন, ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ উল্টো ফলও দিতে পারে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি সামরিক চাপ ইরানে জাতীয়তাবাদী চেতনাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে, যেখানে সরকারবিরোধী বা নিরপেক্ষ অবস্থানকারীরাও বিদেশি সামরিক চাপের মুখে জাতীয়তাবাদের পক্ষে দাঁড়াতে পারেন।

এদিকে, উত্তর ইসরায়েলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি প্রতিহত করা হয়েছে। অন্যটি প্রতিহত করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও, দক্ষিণ লেবানন থেকে আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে ইসরায়েল জানিয়েছে। এর মধ্যে একটি দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর কাছাকাছি পড়েছে, অন্যটি খোলা জায়গায় আঘাত হেনেছে।

আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও লেবাননের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে ইসরায়েলকে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য করা হয় এবং ২০০৬ সালের জাতিসংঘের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়।