ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

শান্তির পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র: ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা প্রশমনের এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছে। কাতারে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তিতে এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

চুক্তির মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা, ইরানের কাছ থেকে মাইন অপসারণের নিশ্চয়তা, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার এবং এর বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জব্দকৃত ইরানি সম্পদ প্রত্যর্পণের আলোচনা। মার্কিন প্রশাসনের সূত্রমতে, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বজায় রেখে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া।

তবে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে যে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে এখনো স্বাক্ষর করেননি বা অনুমোদন দেননি। চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। সমঝোতা হলে এটি পুনরায় চালু করা হতে পারে বলে মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে। তবে ইরান এই প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বা সার্বভৌমত্ব ছাড়তে নারাজ। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রণালিটি একটি নতুন ব্যবস্থাপনার অধীনে চালু হতে পারে, যেখানে তেহরান ও ওমানের যৌথ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে যে হরমুজে কোনো প্রকার টোল আরোপ বা নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করলে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

কূটনৈতিক এই অগ্রগতির খবর আশার সঞ্চার করলেও, বাস্তবে সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে এবং ইরানের বুশেহর অঞ্চলে একটি ‘শত্রু ড্রোন’ ধ্বংসের দাবি করেছে তেহরান। এছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে একাধিক জাহাজকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানি বাহিনী। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলাও অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়ায় বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন যে, তিনি একটি চুক্তি চাইলেও শর্তগুলোর ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতি ও নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হতে পারে, তাই একটি সমঝোতার জন্য চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ৪ জেলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ২ জনের

শান্তির পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র: ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত

আপডেট সময় : ০৬:০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা প্রশমনের এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছে। কাতারে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তিতে এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

চুক্তির মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা, ইরানের কাছ থেকে মাইন অপসারণের নিশ্চয়তা, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার এবং এর বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জব্দকৃত ইরানি সম্পদ প্রত্যর্পণের আলোচনা। মার্কিন প্রশাসনের সূত্রমতে, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বজায় রেখে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া।

তবে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে যে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে এখনো স্বাক্ষর করেননি বা অনুমোদন দেননি। চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। সমঝোতা হলে এটি পুনরায় চালু করা হতে পারে বলে মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে। তবে ইরান এই প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বা সার্বভৌমত্ব ছাড়তে নারাজ। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রণালিটি একটি নতুন ব্যবস্থাপনার অধীনে চালু হতে পারে, যেখানে তেহরান ও ওমানের যৌথ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে যে হরমুজে কোনো প্রকার টোল আরোপ বা নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করলে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

কূটনৈতিক এই অগ্রগতির খবর আশার সঞ্চার করলেও, বাস্তবে সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে এবং ইরানের বুশেহর অঞ্চলে একটি ‘শত্রু ড্রোন’ ধ্বংসের দাবি করেছে তেহরান। এছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে একাধিক জাহাজকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানি বাহিনী। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলাও অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়ায় বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন যে, তিনি একটি চুক্তি চাইলেও শর্তগুলোর ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতি ও নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হতে পারে, তাই একটি সমঝোতার জন্য চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।