রাজধানীর সদরঘাট নৌবন্দর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি যাত্রীবাহী লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ উঠেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে একসময় লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলেও, পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হওয়ায় আবার তা চালু করা হয়। তবে, এখনও নদীপথে সতর্কতা জারি থাকা সত্ত্বেও লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে, যা ঈদ যাত্রায় বাড়তি ঝুঁকির কারণ হচ্ছে।
বিশেষ করে হাতিয়া, বেতুয়া ও চরফ্যাশন রুটের লঞ্চগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের চিত্র ছিল স্পষ্ট। এমভি তাসরিফ-৩ ও এমভি টিপু-১৩ নামের দুটি লঞ্চের ছাদ থেকে শুরু করে করিডোর ও সিঁড়িতেও অসংখ্য যাত্রী দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে দেখা যায়। ঘাট সূত্রে জানা যায়, হাতিয়া ও বেতুয়া রুটে যাত্রীর চাপ বেশি থাকলেও সেই অনুপাতে লঞ্চের সংখ্যা কম ছিল। ফলে অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় টার্মিনালে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
সদরঘাটের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বারবার যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চে না ওঠার জন্য ঘোষণা দেওয়া হলেও, অনেকেই সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে লঞ্চে উঠে পড়েন। এমনকি, লঞ্চ ছাড়ার সময় কয়েকজন যাত্রীকে অন্য লঞ্চ থেকে চলন্ত লঞ্চে লাফিয়ে উঠতে দেখা যায়, যা উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
বেতুয়াগামী এক যাত্রী বলেন, “লঞ্চে ছাদ ভরে যাত্রী নিচ্ছে, তাও কেউ কিছু বলে না। আল্লাহ না করুক যদি দুর্ঘটনা ঘটে।” হাতিয়াগামী আরেক যাত্রী জানান, “হাতিয়ায় যাওয়ার মতো লঞ্চ নেই। যে দুটি আছে, সেগুলোও ভর্তি। এখন কী করবো? কষ্ট হলেও এতে যেতে হবে। আর কত ঘণ্টা অপেক্ষা করবো?” অন্য এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুই দিন ধরে টিকিটের চেষ্টা করেছি। আজও যদি যেতে না পারি, তাহলে ঈদের আগে বাড়ি পৌঁছাতে পারবো না।”
এদিকে, যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী না নিতে প্রশাসনের নির্দেশনা থাকলেও তা কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে না। লঞ্চ ছাড়ার সময় গেটে কিছুটা তদারকি থাকলেও, পরে আরও যাত্রী ওঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তারা অনেক যাত্রীকে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে না ওঠার জন্য বাধা দিলেও, তাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই অনেকে লঞ্চে উঠেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব লঞ্চকে তদারকি করা হচ্ছে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 























