ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

গাজায় যুদ্ধের ছায়া: কোরবানির আনন্দ ম্লান, অনিশ্চিত ঈদ উৎসব

মুসলিম বিশ্বের আনন্দময় ঈদুল আজহা যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার মানুষের কাছে এই উৎসব কেবলই যুদ্ধের বিভীষিকা ও বেদনার প্রতিচ্ছবি। টানা তৃতীয়বারের মতো গাজাবাসী কোরবানির পশু কেনা বা উৎসব পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখানে গবাদিপশুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা উৎসবের ঐতিহ্যকে ম্লান করে দিয়েছে।

যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে ঈদুল আজহা গাজাবাসীর জন্য ছিল আনন্দ ও উদযাপনের উপলক্ষ। পরিবারগুলো একসঙ্গে কোরবানির পশু নির্বাচন করত, উৎসবের প্রস্তুতি নিত এবং আত্মীয়স্বজন ও অভাবী মানুষের মধ্যে মাংস বিতরণ করত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎসব কেবল প্রার্থনা আর স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ। গাজায় গবাদিপশু প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং দৈনন্দিন খাদ্য সংগ্রহ করাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে কোরবানির পশুর বিষয়টি অনেকের কাছেই অকল্পনীয়।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, উপত্যকায় ইসরায়েলের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে গাজায় পণ্য সরবরাহ মারাত্মকভাবে সীমিত। কোরবানির জন্য অপরিহার্য ভেড়া ও বাছুরের মতো গবাদিপশুর সরবরাহ স্থানীয় চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য। গাজা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক জানিয়েছেন, যুদ্ধের আগে যে কোরবানির পশুর দাম ছিল প্রায় ৫০০ মার্কিন ডলার, তা এখন বেড়ে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এই আকাশছোঁয়া দাম অধিকাংশ বাসিন্দার নাগালের বাইরে।

গাজা সিটির এক বাসিন্দা, যিনি চার সন্তানের জনক, তিনি জানান যে এই তীব্র সংকট ও চড়া দামের কারণে কোরবানির পশু কেনা তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তার সন্তানেরা আগে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠত, নতুন পোশাক পরত এবং মাংস বিতরণের পর আত্মীয়দের বাড়ি বেড়াতে যেত। কিন্তু যুদ্ধের কারণে গাজার মানবিক পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে পড়েছে। মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও উপার্জনের উৎস হারিয়েছে, তাই এত বেশি দামে কোরবানির পশু কেনার কথা বেশিরভাগ পরিবার এখন ভাবতেও পারছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটালীপাড়ায় সড়ক সংস্কারে পুকুরচুরি: হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং, ভিডিও ভাইরাল

গাজায় যুদ্ধের ছায়া: কোরবানির আনন্দ ম্লান, অনিশ্চিত ঈদ উৎসব

আপডেট সময় : ০১:১৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

মুসলিম বিশ্বের আনন্দময় ঈদুল আজহা যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার মানুষের কাছে এই উৎসব কেবলই যুদ্ধের বিভীষিকা ও বেদনার প্রতিচ্ছবি। টানা তৃতীয়বারের মতো গাজাবাসী কোরবানির পশু কেনা বা উৎসব পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখানে গবাদিপশুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা উৎসবের ঐতিহ্যকে ম্লান করে দিয়েছে।

যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে ঈদুল আজহা গাজাবাসীর জন্য ছিল আনন্দ ও উদযাপনের উপলক্ষ। পরিবারগুলো একসঙ্গে কোরবানির পশু নির্বাচন করত, উৎসবের প্রস্তুতি নিত এবং আত্মীয়স্বজন ও অভাবী মানুষের মধ্যে মাংস বিতরণ করত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎসব কেবল প্রার্থনা আর স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ। গাজায় গবাদিপশু প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং দৈনন্দিন খাদ্য সংগ্রহ করাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে কোরবানির পশুর বিষয়টি অনেকের কাছেই অকল্পনীয়।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, উপত্যকায় ইসরায়েলের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে গাজায় পণ্য সরবরাহ মারাত্মকভাবে সীমিত। কোরবানির জন্য অপরিহার্য ভেড়া ও বাছুরের মতো গবাদিপশুর সরবরাহ স্থানীয় চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য। গাজা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক জানিয়েছেন, যুদ্ধের আগে যে কোরবানির পশুর দাম ছিল প্রায় ৫০০ মার্কিন ডলার, তা এখন বেড়ে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এই আকাশছোঁয়া দাম অধিকাংশ বাসিন্দার নাগালের বাইরে।

গাজা সিটির এক বাসিন্দা, যিনি চার সন্তানের জনক, তিনি জানান যে এই তীব্র সংকট ও চড়া দামের কারণে কোরবানির পশু কেনা তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তার সন্তানেরা আগে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠত, নতুন পোশাক পরত এবং মাংস বিতরণের পর আত্মীয়দের বাড়ি বেড়াতে যেত। কিন্তু যুদ্ধের কারণে গাজার মানবিক পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে পড়েছে। মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও উপার্জনের উৎস হারিয়েছে, তাই এত বেশি দামে কোরবানির পশু কেনার কথা বেশিরভাগ পরিবার এখন ভাবতেও পারছে না।