বিশ্বজুড়ে এল নিনো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধির এই জলবায়ুগত ঘটনা সাধারণত কয়েক বছর পরপর ঘটে এবং বিশ্ব আবহাওয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা বলছে, এবার ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো আসতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা, খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা এবং খাদ্যসংকটের মতো ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, এল নিনোর প্রভাবেই কি বাংলাদেশে চলতি গ্রীষ্মে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে? এই আলোচনার মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে ‘মেঘভাঙা বৃষ্টি’ বা ক্লাউডবার্স্ট। সম্প্রতি ভারতের দিকে আসা বিশাল মেঘমালার উপগ্রহ চিত্র দেখে পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদরা আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মেঘভাঙা বৃষ্টির কোনো ঝুঁকি নেই।
উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে ভারতের উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীর ধরালি গ্রামে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কোনো ছোট এলাকায় (প্রায় ১ থেকে ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে) এক ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হলে তাকে ক্লাউডবার্স্ট বা মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা হয়। এই ধরনের বৃষ্টিতে স্বল্প সময়ে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যা স্বাভাবিক ভারী বৃষ্টির চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ও ক্ষতিকর।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উষ্ণ ও ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে ঘন মেঘ তৈরি হয়। যখন উষ্ণ বায়ু খুব দ্রুত উপরে উঠতে থাকে, তখন মেঘের জলকণা বৃষ্টির আকারে নেমে আসার সুযোগ পায় না, বরং মেঘের ভেতরেই জমতে থাকে। পাহাড়ি অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া ‘অরোগ্রাফিক লিফট’ নামে পরিচিত। এতে পাহাড়ে বাধা পেয়ে আর্দ্র বাতাস দ্রুত উপরে উঠে ঘনীভূত মেঘ তৈরি করে। এক পর্যায়ে মেঘ অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে না পেরে হঠাৎ প্রবল বেগে বৃষ্টি আকারে নেমে আসে।
মেঘভাঙা বৃষ্টি হলে অল্প সময়েই আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। পার্বত্য এলাকায় এর সঙ্গে ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা পানির সঙ্গে কাদা ও পাথর মিশে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে। এর আগে ভারতের উত্তরাখণ্ড, সিকিম ও লাদাখে এমন ঘটনা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের বৃষ্টিপাত স্থানীয় পরিবেশ ও ভূপ্রকৃতির উপর নির্ভর করে।
রিপোর্টারের নাম 





















