টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে শোকে বিলাপ করছেন সাবিনা ইয়াসমিন। নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাসিন্দা সাবিনা তার স্বামীকে হারিয়ে এখন দিশেহারা। তিনি বলেন, ‘রাতে দুবার কথা হয়েছে। মেয়ের জন্য খেলনা কিনেছেন স্বামী। সেই খবর শুনে মেয়েটি কত খুশি। এখন ছেলেকে কী জবাব দেব? আমার ছেলেকে কে বাবা বলে ডাকবে?’ স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।
সোমবার ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কের সরাতৈল এলাকায় একটি ট্রাক উল্টে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১০ জনই নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভাঁরশো ইউনিয়নের বাসিন্দা। একই গ্রামের সাত জন সহোদরসহ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাদের জীবনাবসান হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।
নিহতরা হলেন- ভাঁরশো ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক জিয়া, বাদশা মিয়া, আবদুল বারিক, সোহাগ হোসেন, রবিউল ইসলাম, মাইনুর ইসলাম এবং সাগর হোসেন। এছাড়া পাকুড়িয়া গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান ও গিয়াস উদ্দিন এবং মশিদপুর গ্রামের সুজন আলীও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। দুপুরে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের বাড়িতে মানুষের ভিড়। একই গ্রামের সাত জনের মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে এলাকাবাসী। স্বজনরা সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহতরা সাইকেলে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্লাস্টিকের পণ্যের বিনিময়ে চুল, ভাঙা মোবাইলসহ বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করতেন। সম্প্রতি তারা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর এলাকায় কাজ করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তারা রডবোঝাই একটি ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর আগেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের জীবন প্রদীপ নিভে যায়।
নিহত মাইনুর ইসলামের চাচাতো ভাই রবিউল ইসলাম জানান, ভাইয়ের সঙ্গে রবিবার বিকালে ফোনে কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, সোমবার রাতে ঈদ করতে তারা বাড়িতে ফিরবেন। মাইনুর ভাইয়ের অসুস্থ মা-বাবা আছেন, তিন বছর বয়সী এক ছেলেসন্তান ও স্ত্রী আছে। পুরো পরিবার তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
রিপোর্টারের নাম 





















