পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৫ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের কালিহাতি উপজেলার সরাতৈল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মধ্যরাতে পথিমধ্যে ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে রড বোঝাই ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ সময় অনেক যাত্রী ট্রাকের রড ও চাকার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৫ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আহত বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্র বাড়ি এলাকার সাকিম মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া, একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম, রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাতান এলাকার বাসিন্দা।
স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে ফেনী ও চট্টগ্রামসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে রডবোঝাই ট্রাকে করে উত্তরবঙ্গের পথে রওনা দিয়েছিলেন তারা। রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে তরিকুল ইসলাম রডবোঝাই ট্রাকে উঠেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন শ্যালক নজরুল ইসলাম ও শ্যালকের ছেলে তুহিন। ঈদ উপলক্ষে কম ভাড়ায় বাড়ি যাওয়ার জন্য তারা ট্রাকের আরোহী হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের বাড়ি ফেরা হয়নি। তরিকুল ইসলাম বেঁচে গেলেও ঘটনাস্থলেই নিহত হন নজরুল ইসলাম এবং আহত হন তুহিন। তরিকুল ইসলাম জানান, বাড়ির লোকজন তাদের অপেক্ষায় আছে, কিন্তু তার শ্যালক মর্গে আর শ্যালকের ছেলে হাসপাতালে।
তরিকুল ও তার সহযাত্রীরা চট্টগ্রামে ‘হরেক মালের’ ব্যবসা করেন। চট্টগ্রাম থেকে জনপ্রতি পাঁচ শ টাকা ভাড়ায় রাজশাহী পর্যন্ত যাওয়ার জন্য ট্রাকে উঠেছিলেন। তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে রবিবার বেলা ১টায় তারা চার জন ট্রাকে ওঠেন। ট্রাকটি সন্ধ্যায় ফেনী পৌঁছালে সেখান থেকে আরও ১৮ জন আরোহী নেয়।
রিপোর্টারের নাম 






















