সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করা হলেও, ১৬ দিন পরও বিধিনিষেধের কারণে প্রবাল দ্বীপটির উদ্দেশে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। ফলে একসময়কার মুখরিত এই দ্বীপটি বর্তমানে পর্যটকশূন্য, নীরব ও নিঃসঙ্গ অবস্থায় রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
পর্যটকের আগমন বন্ধ থাকায় দ্বীপের দুই শতাধিক হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইজিবাইক চালকরা বলছেন, তাদের আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে এবং অনেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছেন। দ্বীপের ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এখানে একটি ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দ্রুত জাহাজ চলাচল শুরু না হলে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন।
সী ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, সরকার নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য অনুমতি দিলেও রাতে না থাকার বাধ্যবাধকতার কারণে পর্যটকদের অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে। দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসার এই বিধিনিষেধের কারণে লোকসানের মুখে পড়ায় তারা এ মাসে জাহাজ যাত্রা পরিচালনায় বিরত থেকেছেন। তবে তিনি আশা করছেন, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকায় ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করবে।
এদিকে, সরকার কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার ঘাট থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১৯৯৫ সালের আইন অনুযায়ী সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করায় কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার কারণে ইনানী নৌবাহিনীর ঘাট থেকে জাহাজ যাওয়ার সুযোগ নেই। পরিবেশবিদরা টেকসই পর্যটনের জন্য সীমাবদ্ধতাকে জরুরি বললেও, স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকা রক্ষায় সুষম নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























