ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সেন্টমার্টিন নিয়ে প্রোপাগান্ডা ও বাস্তবতা: প্রবাল দ্বীপে নেই কোনো বিদেশি ঘাঁটি, স্বাভাবিক জনজীবন

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে ঘিরে গত কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা ব্যাপক প্রোপাগান্ডা ও সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরেজমিনে দ্বীপ পরিদর্শন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সেখানে বিদেশি কোনো বাহিনীর উপস্থিতি নেই। বরং দ্বীপের জনজীবন অত্যন্ত স্বাভাবিক ও কর্মচঞ্চল। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই জেলেরা মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যাচ্ছেন এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার পর্যটক দ্বীপটির নীল জলরাশি উপভোগ করতে আসছেন।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ফেসবুক ও ইউটিউবে বিভিন্ন দেশের নৌ-মহড়ার পুরনো ছবি ও ভিডিও এডিট করে সেন্টমার্টিন ‘দখল’ হয়ে যাওয়ার বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সরকারের পর্যটন সীমিত করার সিদ্ধান্তকে গুজবকারীরা ‘গোপন সামরিক উদ্দেশ্য’ হিসেবে প্রচার করছে। প্রকৃতপক্ষে, মাত্র ৮ বর্গকিলোমিটারের এই ক্ষুদ্র দ্বীপটির প্রবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ ও লাল কাঁকড়া রক্ষা করতেই সরকার নতুন পরিবেশবান্ধব নীতিমালা কার্যকর করেছে। দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দা ও জেলেরা জানিয়েছেন, তারা বংশপরম্পরায় এখানে বাস করছেন এবং নিজেদের দেশের নৌবাহিনী ছাড়া অন্য কোনো বাহিনীর আনাগোনা তারা কখনোই দেখেননি।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দ্বীপ ও সংলগ্ন জলসীমায় ২৪ ঘণ্টা নিশ্ছিদ্র নজরদারি বজায় রেখেছে। সেন্টমার্টিন ফরওয়ার্ড বেইজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্নত রাডার নজরদারি ও নিয়মিত টহলের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশের সীমান্ত থেকে যেকোনো অনুপ্রবেশ বা নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিরোধ করা হচ্ছে। সম্প্রতি নৌবাহিনী সমুদ্রপথে মানব পাচার রোধ এবং বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করার মাধ্যমে তাদের নিয়মিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটিতে নৌবাহিনীর পাশাপাশি কোস্টগার্ড, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টমার্টিন নিয়ে ছড়ানো এসব গুজব কেবল সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কই সৃষ্টি করছে না, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা মাত্র। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সাথে মাঝেমধ্যে আয়োজিত যৌথ মহড়ার ছবি ব্যবহার করেই মূলত এই বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে দ্বীপটি তার চিরচেনা রূপেই উৎসবমুখর রয়েছে এবং পর্যটকরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে নিয়মিত যাতায়াত করছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

সেন্টমার্টিন নিয়ে প্রোপাগান্ডা ও বাস্তবতা: প্রবাল দ্বীপে নেই কোনো বিদেশি ঘাঁটি, স্বাভাবিক জনজীবন

আপডেট সময় : ০৩:০১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে ঘিরে গত কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা ব্যাপক প্রোপাগান্ডা ও সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরেজমিনে দ্বীপ পরিদর্শন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সেখানে বিদেশি কোনো বাহিনীর উপস্থিতি নেই। বরং দ্বীপের জনজীবন অত্যন্ত স্বাভাবিক ও কর্মচঞ্চল। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই জেলেরা মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যাচ্ছেন এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার পর্যটক দ্বীপটির নীল জলরাশি উপভোগ করতে আসছেন।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ফেসবুক ও ইউটিউবে বিভিন্ন দেশের নৌ-মহড়ার পুরনো ছবি ও ভিডিও এডিট করে সেন্টমার্টিন ‘দখল’ হয়ে যাওয়ার বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সরকারের পর্যটন সীমিত করার সিদ্ধান্তকে গুজবকারীরা ‘গোপন সামরিক উদ্দেশ্য’ হিসেবে প্রচার করছে। প্রকৃতপক্ষে, মাত্র ৮ বর্গকিলোমিটারের এই ক্ষুদ্র দ্বীপটির প্রবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ ও লাল কাঁকড়া রক্ষা করতেই সরকার নতুন পরিবেশবান্ধব নীতিমালা কার্যকর করেছে। দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দা ও জেলেরা জানিয়েছেন, তারা বংশপরম্পরায় এখানে বাস করছেন এবং নিজেদের দেশের নৌবাহিনী ছাড়া অন্য কোনো বাহিনীর আনাগোনা তারা কখনোই দেখেননি।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দ্বীপ ও সংলগ্ন জলসীমায় ২৪ ঘণ্টা নিশ্ছিদ্র নজরদারি বজায় রেখেছে। সেন্টমার্টিন ফরওয়ার্ড বেইজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্নত রাডার নজরদারি ও নিয়মিত টহলের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশের সীমান্ত থেকে যেকোনো অনুপ্রবেশ বা নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিরোধ করা হচ্ছে। সম্প্রতি নৌবাহিনী সমুদ্রপথে মানব পাচার রোধ এবং বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করার মাধ্যমে তাদের নিয়মিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটিতে নৌবাহিনীর পাশাপাশি কোস্টগার্ড, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টমার্টিন নিয়ে ছড়ানো এসব গুজব কেবল সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কই সৃষ্টি করছে না, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা মাত্র। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সাথে মাঝেমধ্যে আয়োজিত যৌথ মহড়ার ছবি ব্যবহার করেই মূলত এই বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে দ্বীপটি তার চিরচেনা রূপেই উৎসবমুখর রয়েছে এবং পর্যটকরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে নিয়মিত যাতায়াত করছেন।