ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বাজেট সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর সংকট: স্থিতিশীলতা ফেরানোই মূল চ্যালেঞ্জ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বড় ধরনের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ এবং সরকারের ক্রমবর্ধমান ঋণনির্ভরতা— এসব মিলিয়ে অর্থনীতির ভারসাম্য এখন নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এমন বাস্তবতায় অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, ব্যবসার খরচ কমানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ পুনরুদ্ধার করা।

একজন শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মনে করেন, দেশের অর্থনীতিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিনিময় হার, সুদের হার ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। তার মতে, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সুদের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি এবং বিনিময় হারও অনেকটা প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা এখনও ফিরে আসেনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে— যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক সংকেত। ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন, নতুন শিল্প স্থাপন কমে যাচ্ছে এবং উৎপাদন সক্ষমতাও সংকুচিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে, যা গত ২৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। কয়েক মাস আগেও এই প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ঋণপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

২০২৬ সালের মার্চ শেষে বেসরকারি খাতে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকা। তবে ঋণের পরিমাণ বাড়লেও নতুন বিনিয়োগের গতি কমে গেছে। ব্যাংকারদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক বড় শিল্পগ্রুপ কার্যক্রম সংকুচিত করেছে। কিছু কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সক্ষমতার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমলেও ব্যবসার মূল সংকটগুলো এখনও রয়ে গেছে। উচ্চ সুদহার, জ্বালানি ঘাটতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং নীতিগত দুর্বলতা— এসবই অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিদ্যমান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সহিংসতা বাড়লে সনাতনীদের জন্য পৃথক প্রদেশ গঠনের হুঁশিয়ারি: আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী

বাজেট সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর সংকট: স্থিতিশীলতা ফেরানোই মূল চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৮:১৪:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বড় ধরনের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ এবং সরকারের ক্রমবর্ধমান ঋণনির্ভরতা— এসব মিলিয়ে অর্থনীতির ভারসাম্য এখন নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এমন বাস্তবতায় অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, ব্যবসার খরচ কমানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ পুনরুদ্ধার করা।

একজন শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মনে করেন, দেশের অর্থনীতিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিনিময় হার, সুদের হার ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। তার মতে, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সুদের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি এবং বিনিময় হারও অনেকটা প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা এখনও ফিরে আসেনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে— যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক সংকেত। ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন, নতুন শিল্প স্থাপন কমে যাচ্ছে এবং উৎপাদন সক্ষমতাও সংকুচিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে, যা গত ২৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। কয়েক মাস আগেও এই প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ঋণপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

২০২৬ সালের মার্চ শেষে বেসরকারি খাতে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকা। তবে ঋণের পরিমাণ বাড়লেও নতুন বিনিয়োগের গতি কমে গেছে। ব্যাংকারদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক বড় শিল্পগ্রুপ কার্যক্রম সংকুচিত করেছে। কিছু কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সক্ষমতার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমলেও ব্যবসার মূল সংকটগুলো এখনও রয়ে গেছে। উচ্চ সুদহার, জ্বালানি ঘাটতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং নীতিগত দুর্বলতা— এসবই অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিদ্যমান।