ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ৭১ কোটি ডলার সহায়তা চেয়ে আবেদন

বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য চলতি বছর ৭১ দশমিক শূন্য পাঁচ কোটি ডলার সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, সুরক্ষা, শিক্ষাসহ মোট আটটি খাতে কক্সবাজার ও ভাষানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দা সহ মোট ১৫ লাখ মানুষের সহায়তার জন্য এই তহবিল চাওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) ঢাকার জাতিসংঘ ভবনে তহবিলের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে এই আবেদন জানানো হয়। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতিসংঘ এবং এর অংশীদাররা জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের (জেআরপি) আওতায় এই সহায়তার আবেদন করে। অনুষ্ঠানে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করেন ইউএনএইচসিআর’র কেলি ক্লেমেন্টস, ডব্লিউএফপি’র রানিয়া দাগাশ-কামারা, ইউএন উইমেন’র নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসরকারি সংস্থা বিষয়ক সচিব ও ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব এম. ফরহাদুল ইসলাম এবং জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর। ৫২টি বাংলাদেশি সংস্থা সহ ৯৮টি মানবিক অংশীদার এই সহায়তার আবেদনে সমর্থন জানিয়েছে।

সহায়তার এই আবেদন এমন সময়ে জানানো হলো যখন বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং মানবিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে অগ্রাধিকার নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি পরিষেবাগুলো হুমকির মুখে। এমন সময়েও বাংলাদেশ উদারভাবে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। তাই বাংলাদেশের এই পদক্ষেপে জোর দিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

চার দিনের একটি যৌথ উচ্চপর্যায়ের দাতাদের আলোচনার পর এই আবেদন জানানো হয়। কেলি টি. ক্লেমেন্টস এবং রানিয়া দাগাশ-কামারার নেতৃত্বে এই মিশনে প্রধান আন্তর্জাতিক দাতা প্রতিনিধিদের একটি দল একত্রিত হয়। এই মিশনের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী পরিদর্শনের জন্য দু’দিনের একটি সফর ছিল, যেখানে মূল অংশীদার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজার ও ঢাকায় সরকার, জাতিসংঘ ও এনজিও অংশীদারদের পাশাপাশি বৃহত্তর দাতা সম্প্রদায়ের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছে।

মানবিক সম্প্রদায় আবারও জোর দিয়ে বলছে যে রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই সমাধান হলো স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আড়াইহাজারে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে এসআইকে ক্লোজড, পুলিশ লাইনে সংযুক্ত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ৭১ কোটি ডলার সহায়তা চেয়ে আবেদন

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য চলতি বছর ৭১ দশমিক শূন্য পাঁচ কোটি ডলার সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, সুরক্ষা, শিক্ষাসহ মোট আটটি খাতে কক্সবাজার ও ভাষানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দা সহ মোট ১৫ লাখ মানুষের সহায়তার জন্য এই তহবিল চাওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) ঢাকার জাতিসংঘ ভবনে তহবিলের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে এই আবেদন জানানো হয়। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতিসংঘ এবং এর অংশীদাররা জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের (জেআরপি) আওতায় এই সহায়তার আবেদন করে। অনুষ্ঠানে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করেন ইউএনএইচসিআর’র কেলি ক্লেমেন্টস, ডব্লিউএফপি’র রানিয়া দাগাশ-কামারা, ইউএন উইমেন’র নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসরকারি সংস্থা বিষয়ক সচিব ও ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব এম. ফরহাদুল ইসলাম এবং জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর। ৫২টি বাংলাদেশি সংস্থা সহ ৯৮টি মানবিক অংশীদার এই সহায়তার আবেদনে সমর্থন জানিয়েছে।

সহায়তার এই আবেদন এমন সময়ে জানানো হলো যখন বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং মানবিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে অগ্রাধিকার নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি পরিষেবাগুলো হুমকির মুখে। এমন সময়েও বাংলাদেশ উদারভাবে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। তাই বাংলাদেশের এই পদক্ষেপে জোর দিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

চার দিনের একটি যৌথ উচ্চপর্যায়ের দাতাদের আলোচনার পর এই আবেদন জানানো হয়। কেলি টি. ক্লেমেন্টস এবং রানিয়া দাগাশ-কামারার নেতৃত্বে এই মিশনে প্রধান আন্তর্জাতিক দাতা প্রতিনিধিদের একটি দল একত্রিত হয়। এই মিশনের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী পরিদর্শনের জন্য দু’দিনের একটি সফর ছিল, যেখানে মূল অংশীদার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজার ও ঢাকায় সরকার, জাতিসংঘ ও এনজিও অংশীদারদের পাশাপাশি বৃহত্তর দাতা সম্প্রদায়ের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছে।

মানবিক সম্প্রদায় আবারও জোর দিয়ে বলছে যে রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই সমাধান হলো স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন।