ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে চাঁদ দেখার গুরুত্ব: জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ভূমিকা

মুসলমানদের ধর্মীয় আচার-আচরণ, যেমন নামাজ, রোজা, ঈদ ইত্যাদি হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে পালিত হয়, যা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে মুসলিম দেশগুলোতে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধর্মীয় বিধিবিধান নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। প্রতি হিজরি মাসের ২৯ তারিখে এই কমিটি সভা করে এবং চাঁদ দেখা না দেখার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী মাসের তারিখ ঘোষণা করে।

মুসলিম বিশ্বে অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত হয়। এই বছর জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সাধারণত ঈদের আগে আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও সারা বছরই এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কমিটিতে মোট ১৮ জন সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রধানরা পদাধিকার বলে অন্তর্ভুক্ত। তবে অনেক ক্ষেত্রে কমিটির সদস্যরা সরাসরি সভায় উপস্থিত না হয়ে সংস্থার মনোনীত প্রতিনিধি পাঠান।

চাঁদ দেখা কমিটিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়ার অধ্যক্ষ, বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব ও সিনিয়র পেশ ইমাম, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব প্রমুখ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অফিস রয়েছে। এসব অফিসে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহ করে জাতীয় কমিটিতে পাঠায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন-বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কমিটির সদস্য বা তাদের মনোনীত প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। সভায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদ দেখার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয় এবং পরবর্তী মাসের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে চোখ হারানো যুবকের মামলায় আ.লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে চাঁদ দেখার গুরুত্ব: জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ভূমিকা

আপডেট সময় : ০১:১৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

মুসলমানদের ধর্মীয় আচার-আচরণ, যেমন নামাজ, রোজা, ঈদ ইত্যাদি হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে পালিত হয়, যা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে মুসলিম দেশগুলোতে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধর্মীয় বিধিবিধান নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। প্রতি হিজরি মাসের ২৯ তারিখে এই কমিটি সভা করে এবং চাঁদ দেখা না দেখার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী মাসের তারিখ ঘোষণা করে।

মুসলিম বিশ্বে অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত হয়। এই বছর জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সাধারণত ঈদের আগে আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও সারা বছরই এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কমিটিতে মোট ১৮ জন সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রধানরা পদাধিকার বলে অন্তর্ভুক্ত। তবে অনেক ক্ষেত্রে কমিটির সদস্যরা সরাসরি সভায় উপস্থিত না হয়ে সংস্থার মনোনীত প্রতিনিধি পাঠান।

চাঁদ দেখা কমিটিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়ার অধ্যক্ষ, বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব ও সিনিয়র পেশ ইমাম, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব প্রমুখ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অফিস রয়েছে। এসব অফিসে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহ করে জাতীয় কমিটিতে পাঠায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন-বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কমিটির সদস্য বা তাদের মনোনীত প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। সভায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদ দেখার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয় এবং পরবর্তী মাসের ঘোষণা দেওয়া হয়।