নির্বাচনের আগে নানা ইস্যুতে তীব্র বিরোধিতা থাকলেও সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সরকার ও বিরোধী আসনে থাকলেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দলের মধ্যে এক ধরনের অঘোষিত সমন্বয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখা, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বিরোধী এমপিদের এলাকায় উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে দুই দলের মধ্যে বোঝাপড়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে যেখানে দুই দলের শীর্ষ নেতারা একে অপরকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ ও ‘চাঁদাবাজ’ বলে আক্রমণ করেছিলেন, সেখানে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অবস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
বিশেষ করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে প্রকাশ্য সমন্বয় আলোচনায় আসে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে সংসদে সরকার ও বিরোধী দল মিলে ১০ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান উভয়েই এতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়েও দুই পক্ষের অবস্থান প্রায় একই ছিল। সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী পাসের সময় বিরোধী দল বড় ধরনের আপত্তি তোলেনি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্বাচনের আগে হওয়া বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও জামায়াতের প্রকাশ্য বিরোধিতা না থাকায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও জামায়াত দাবি করেছে, ওই চুক্তির বিষয়ে তাদের সঙ্গে সরকারের কোনো আলোচনা হয়নি।
এ পরিস্থিতিকে কেউ কেউ দেশের স্বার্থে ইতিবাচক সমন্বয় হিসেবে দেখলেও অন্যদের মতে এটি “নিয়ন্ত্রিত বিরোধিতা”র উদাহরণ। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স অভিযোগ করেছেন, সরকার ও তথাকথিত বিরোধী দল মূলত সমঝোতার ভিত্তিতে রাজনীতি করছে। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-এর নেতা রাজেকুজ্জামান রতন। তবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম দাবি করেছেন, জনগণের স্বার্থে সরকারের ইতিবাচক কাজের প্রশংসা করা হলেও অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদ ও রাজপথে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, সরকার তার নিজস্ব গতিতে চলছে এবং বিরোধী দল কী অবস্থান নেবে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 
























