গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের যোগদানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৫ জনসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গাজীপুর সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলামসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফা কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ১০টা থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং অগ্নিসংযোগে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জানা গেছে, নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিভিন্ন বিভাগের একদল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আন্দোলন অব্যাহত থাকে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ব্যানার টানিয়ে দেন এবং সকালে ‘নতুন ভিসিকে লাল কার্ড’ কর্মসূচির ডাক দেন।
সকাল থেকেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন এবং একপর্যায়ে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। সকাল ১০টার দিকে নতুন উপাচার্য মোহাম্মদ ইকবাল ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর আগেই প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে স্বাগত জানাতে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ ফটক খুলে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা ও বহিরাগত ব্যক্তিদের একটি অংশ বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। পরে বাইরে অবস্থান নেওয়া পক্ষও পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং প্রধান ফটকের সামনে আগুন জ্বালানো হয়।
কয়েক ঘণ্টা থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফা কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
রিপোর্টারের নাম 






















