ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

কব্জিতে জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি: হৃদরোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্মার্টওয়াচের ভূমিকা

এক দশক আগেও ঘড়ি কেবল সময় দেখা বা ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবেই ব্যবহৃত হতো। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে এটি এখন আমাদের কবজিতে বাঁধা এক মিনি-মেডিক্যাল ল্যাবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে বাংলাদেশে হৃদরোগের (কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ) ঝুঁকি যখন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, তখন ‘স্মার্টওয়াচ’ বা পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি অনেকের জীবনরক্ষাকারী কবজ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো ঘটনাগুলো হঠাৎ করে ঘটে না; শরীর আগে থেকেই কিছু মৃদু সংকেত দেয়, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। আধুনিক স্মার্টওয়াচগুলো এই ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অ্যাপল ওয়াচ, স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ বা ফিটবিটের মতো ডিভাইসে থাকা অপটিক্যাল হার্ট রেট সেন্সর এবং ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে হঠাৎ বেড়ে বা কমে গেলে এই ডিভাইসগুলো তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাঠায়। এর ফলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হৃদরোগের নীরব মহামারি এখন আর কেবল বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; স্থূলতা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং কায়িক শ্রমের অভাবে তরুণ প্রজন্মও এর শিকার হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জিনগত কারণেই হৃদরোগের ঝুঁকি পশ্চিমা বিশ্বের চেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপের রোগী। এই বাস্তবতায় দেশের শহুরে কর্মজীবী এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে স্মার্টওয়াচের ব্যবহার কেবল ফ্যাশন নয়, একটি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। স্মার্টওয়াচের পেছনে থাকা ইলেকট্রোডগুলো হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত নিখুঁতভাবে পড়তে পারে এবং ‘অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন’ বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন শনাক্ত করতে পারে, যা স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত, ভারতে পালাল

কব্জিতে জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি: হৃদরোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্মার্টওয়াচের ভূমিকা

আপডেট সময় : ১০:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

এক দশক আগেও ঘড়ি কেবল সময় দেখা বা ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবেই ব্যবহৃত হতো। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে এটি এখন আমাদের কবজিতে বাঁধা এক মিনি-মেডিক্যাল ল্যাবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে বাংলাদেশে হৃদরোগের (কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ) ঝুঁকি যখন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, তখন ‘স্মার্টওয়াচ’ বা পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি অনেকের জীবনরক্ষাকারী কবজ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো ঘটনাগুলো হঠাৎ করে ঘটে না; শরীর আগে থেকেই কিছু মৃদু সংকেত দেয়, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। আধুনিক স্মার্টওয়াচগুলো এই ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অ্যাপল ওয়াচ, স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ বা ফিটবিটের মতো ডিভাইসে থাকা অপটিক্যাল হার্ট রেট সেন্সর এবং ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে হঠাৎ বেড়ে বা কমে গেলে এই ডিভাইসগুলো তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাঠায়। এর ফলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হৃদরোগের নীরব মহামারি এখন আর কেবল বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; স্থূলতা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং কায়িক শ্রমের অভাবে তরুণ প্রজন্মও এর শিকার হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জিনগত কারণেই হৃদরোগের ঝুঁকি পশ্চিমা বিশ্বের চেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপের রোগী। এই বাস্তবতায় দেশের শহুরে কর্মজীবী এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে স্মার্টওয়াচের ব্যবহার কেবল ফ্যাশন নয়, একটি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। স্মার্টওয়াচের পেছনে থাকা ইলেকট্রোডগুলো হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত নিখুঁতভাবে পড়তে পারে এবং ‘অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন’ বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন শনাক্ত করতে পারে, যা স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ।