মানুষ সামাজিক জীব এবং সম্পর্ক তৈরিতে হাসি, সৌজন্য ও আন্তরিকতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অনেক সময় এই স্বাভাবিক আচরণগুলোও ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে, যেখানে একজন ব্যক্তি মনে করতে শুরু করেন যে অন্যজন তার প্রতি রোমান্টিক অনুভূতি পোষণ করে, যদিও বাস্তবে তেমন কোনো ইঙ্গিত থাকে না। মনোবিজ্ঞানে এই ধরনের মানসিক অবস্থাকে ‘ইরোটোম্যানিয়া’ বলা হয়।
রাজধানীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী তার সহপাঠীর সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা, নোট আদান-প্রদান এবং পড়াশোনায় সাহায্য করাকে ব্যক্তিগত গুরুত্ব হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে সহপাঠী তাকে পছন্দ করে কিন্তু সরাসরি বলছে না। যখন তিনি তার অনুভূতির কথা জানান, তখন সহপাঠী তাকে কেবল বন্ধু হিসেবেই দেখেন বলে স্পষ্ট করে দেন। কিন্তু সেই শিক্ষার্থী মনে করেন যে অস্বস্তি বা সামাজিক চাপের কারণে সহপাঠী সত্যিটা অস্বীকার করছে।
কর্মক্ষেত্রেও এমন ঘটনা দেখা যায়। কোনো সহকর্মীর নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া, কাজের প্রশংসা করা বা হেসে কথা বলার মতো সাধারণ সৌজন্যমূলক আচরণকেও কেউ কেউ ব্যক্তিগত আকর্ষণের সংকেত হিসেবে ভুল করতে পারেন। অথচ অনেক সময় এগুলো নিছকই বন্ধুত্ব বা স্বাভাবিক সামাজিক আচরণের অংশ হয়ে থাকে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাভাবিক আকর্ষণ এবং বিভ্রমের মধ্যে পার্থক্য এখানেই। দৈনন্দিন জীবনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সংকেত বিনিময় করে। কেউ হাসিমুখে কথা বলে, কেউ সহানুভূতি দেখায়, কেউ পেশাগত সৌজন্য বজায় রাখে। কিন্তু কিছু ব্যক্তি এসব আচরণকে রোমান্টিক আগ্রহ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন। এর পেছনে একাকিত্ব, আত্মসম্মানের সংকট, দীর্ঘদিনের আবেগগত বঞ্চনা অথবা কল্পনা ও বাস্তবের সীমারেখা দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো কারণ থাকতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার এই প্রবণতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। একটি লাইক, স্টোরি দেখা বা নিয়মিত অনলাইন উপস্থিতিকেও অনেকে ব্যক্তিগত আগ্রহের প্রমাণ হিসেবে ধরে নিতে পারেন। যখন এই বিশ্বাস বাস্তবতাকে ছাড়িয়ে যায়, তখন তা ‘ইরোটোম্যানিয়া’-র দিকে মোড় নিতে পারে, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে অন্যজন তার প্রেমে পড়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















