বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ রাজনৈতিক অচলাবস্থা উত্তরণে ভূমিকা রাখলেও তা গুরুতর সাংবিধানিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে গণভোটের বিষয়াবলীর কারণে গণভোট ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই জুলাই সনদ ও গণভোটকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা জরুরি। সনদ আদেশ সংশোধন করে শুধু মতৈক্যের বিষয়গুলো গণভোট দিতে হবে।’
রবিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে দলের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির নামে জারি করা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংশোধন) আদেশ নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা অনেকটা দূর করলেও তা অনেক গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্পষ্টতই এই আদেশের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষকে আস্থায় নেওয়ার প্রচেষ্টা রয়েছে।’
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের এই প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যমান যে সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন ও ১৫ মাস ধরে ক্ষমতায় আছেন তারা সংবিধান সংশোধন নিয়ে কোনও সাংবিধানিক আদেশ দিতে পারেন কি-না এবং এই আদেশ বিদ্যমান সংবিধানকে অস্বীকার করার সামিল কি-না এই প্রশ্নও বড় হয়ে উঠেছে।’
বস্তুত এ ধরনের আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট ও এখতিয়ারের বাইরে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একইদিনে গণভোট অনুষ্ঠানের পদক্ষেপকে তিনি স্বাগত জানান।
তার মতে, এই পদক্ষেপ ইতিবাচক হলেও গণভোটের জন্য উত্থাপিত বিষয়াবলীর ওপর একটি শব্দে মতামত দেওয়া অস্বাভাবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ। যে চারটি ভাগে ভাগ করে গণভোটের বিষয়াবলী উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল একটি উত্তরে “হ্যাঁ” বা “না” বলা যথেষ্ট জটিল প্রক্রিয়া। ভোটারেরা যদি দুটি বিষয়ে “হ্যাঁ”, বা দুটি বা একটি বিষয়ে “না” বলতে চান তাদের জন্য বিকল্প কী?”
তিনি বলেন, “এইভাবে গণভোটের আসল উদ্দেশ্য অর্জন করা যাবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।” তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদকে ঝুঁকির মধ্যে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তা হবে আত্মঘাতী।’
তিনি ঝুঁকি এড়াতে সংবিধান সংশোধনের যেসব বিষয়ে সব দলের মতৈক্য রয়েছে কেবল সেসব বিষয়ে গণভোটের দাবি জানান। তিনি বাকি বিষয়সমূহ পরবর্তী নির্বাচিত পার্লামেন্টের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আহবান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নামে সাংবিধানিক আদেশ জারির কোনও সুযোগ নেই। বাস্তবিকভাবে এই আদেশ ভবিষ্যতে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রতিনিধিত্বকারী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পার্লামেন্টকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিপজ্জনক নজির হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার রাস্তা খুলে দিয়েছে।
তিনি এসব বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সংশোধনে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিকদার হারুন মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সংগঠক বাবর চৌধুরী, ঢাকা মহানগর নেতা সালাউদ্দিন, যুবরান আলী জুয়েল, আরিফুল ইসলাম আরিফ, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।
রিপোর্টারের নাম 
























