দেশে সম্প্রতি হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে শিশুমৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই রোগটি মোকাবিলায় একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় নির্দেশিকা বা ‘গাইডলাইনের’ অভাববোধ করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, একটি প্রমিত গাইডলাইন থাকলে দেশের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে শুরু করে সর্বত্র একই ধরনের সঠিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হতো, যা শিশুমৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনত। সরকারও এই প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে দ্রুত একটি নির্দেশিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
হামের বর্তমান পরিস্থিতি এবং গাইডলাইন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিচে কোনো পয়েন্ট ছাড়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার অর্থ প্রতিদিন গড়ে সাতটি শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। মৃত শিশুদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর একটি বড় অংশই এক বছরের কম বয়সী শিশু। রোগ নির্ণয়ের জন্য পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় অনেক সময় হামের রোগী আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন এবং তাজুল ইসলাম এ বারী জোর দিয়ে বলেছেন যে, চিকিৎসকরা সব জানলেও একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা থাকলে উপসর্গ অনুযায়ী দেশজুড়ে একই প্রমিত নিয়ম অনুসরণ করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সহজ হতো। বর্তমানে হামের নির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন না থাকায় নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে গাইডলাইন রয়েছে, তা অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তবে হামের জন্য একটি বিশেষ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এর প্রধান অধ্যাপক মো. হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন যে, গাইডলাইন তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
এদিকে গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি সপ্তাহের শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সরকারি হিসাবে সরাসরি হামে ৪২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১৯৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে একটি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের আটটি বিভাগ এবং ১২টি সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ইতিমধ্যে ৭৩ লাখেরও বেশি শিশুকে সফলভাবে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদানের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামের জাতীয় গাইডলাইনটি চূড়ান্ত করে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া জরুরি, যাতে প্রতিটি আক্রান্ত শিশু সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার অধিকার পায়।
রিপোর্টারের নাম 

























