ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নদী সাঁতরে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা: সুনামগঞ্জে নেই সেতু, জীবনের ঝুঁকি নিত্যসঙ্গী

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ও শ্রীপুর গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রূপেশরী নদী সাঁতরে পার হয়ে ঘিলাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অল্প বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢলে নদী ফুলে-ফেঁপে উঠলে বই-খাতা মাথার ওপর তুলে এই বিপজ্জনক যাতায়াত করতে হয় তাদের।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের এভাবে নদী সাঁতরে পার হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বই-খাতা ভিজে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে মাথার ওপর তুলে কয়েকজন শিক্ষার্থী স্রোতের মধ্য দিয়ে নদী পার হচ্ছে। এ সময় স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে গেলে একে অপরকে টেনে পাড়ে তোলে।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর ও শ্রীপুর গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় এখানকার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার জন্য রূপেশরী নদী পার হতে হয়। নদী পারাপারের জন্য এখানে কোনো নৌকা, সেতু বা বাঁশের সাঁকো নেই। ফলে বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাঁতরেই চলাচল করতে হচ্ছে। ঘিলাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নগ্নজিতা হাজং জানান, ‘বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের। সামান্য বৃষ্টিতেই নদীতে পাহাড়ি ঢল নামে, তখন শিশুদের জন্য স্কুলে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। আমাকেও একইভাবে নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।’ তিনি দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান, যা শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করবে।

শ্রীপুর গ্রামের কল্যাণী হাজং জানান, ‘প্রতিদিন সন্তানদের নদী পার হতে দেখে আতঙ্কে থাকি। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, কয়েক গ্রামের সাধারণ মানুষও এই নদী পার হয়ে চলাচল করেন। অসুস্থ রোগী নেওয়া কিংবা জরুরি কাজে যাতায়াতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।’ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দীনি হাজং জানায়, ‘নদী পার হতে গিয়ে অনেক সময় জামা-কাপড়ের পাশাপাশি বইও ভিজে যায়। কিন্তু স্কুলে না গিয়ে উপায় নেই।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিট বেল্ট ছাড়া ড্রাইভিং ও ফোনে কথায় হবে এআই মামলা

নদী সাঁতরে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা: সুনামগঞ্জে নেই সেতু, জীবনের ঝুঁকি নিত্যসঙ্গী

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ও শ্রীপুর গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রূপেশরী নদী সাঁতরে পার হয়ে ঘিলাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অল্প বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢলে নদী ফুলে-ফেঁপে উঠলে বই-খাতা মাথার ওপর তুলে এই বিপজ্জনক যাতায়াত করতে হয় তাদের।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের এভাবে নদী সাঁতরে পার হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বই-খাতা ভিজে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে মাথার ওপর তুলে কয়েকজন শিক্ষার্থী স্রোতের মধ্য দিয়ে নদী পার হচ্ছে। এ সময় স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে গেলে একে অপরকে টেনে পাড়ে তোলে।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর ও শ্রীপুর গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় এখানকার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার জন্য রূপেশরী নদী পার হতে হয়। নদী পারাপারের জন্য এখানে কোনো নৌকা, সেতু বা বাঁশের সাঁকো নেই। ফলে বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাঁতরেই চলাচল করতে হচ্ছে। ঘিলাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নগ্নজিতা হাজং জানান, ‘বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের। সামান্য বৃষ্টিতেই নদীতে পাহাড়ি ঢল নামে, তখন শিশুদের জন্য স্কুলে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। আমাকেও একইভাবে নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।’ তিনি দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান, যা শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করবে।

শ্রীপুর গ্রামের কল্যাণী হাজং জানান, ‘প্রতিদিন সন্তানদের নদী পার হতে দেখে আতঙ্কে থাকি। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, কয়েক গ্রামের সাধারণ মানুষও এই নদী পার হয়ে চলাচল করেন। অসুস্থ রোগী নেওয়া কিংবা জরুরি কাজে যাতায়াতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।’ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দীনি হাজং জানায়, ‘নদী পার হতে গিয়ে অনেক সময় জামা-কাপড়ের পাশাপাশি বইও ভিজে যায়। কিন্তু স্কুলে না গিয়ে উপায় নেই।’