ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

‘সুপার এল নিনো’র পূর্বাভাস: রেকর্ড তাপপ্রবাহ ও ভয়াবহ দাবানলের শঙ্কা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ বছর আফ্রিকা, এশিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে রেকর্ডসংখ্যক দাবানলের ঘটনা ঘটছে। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এগিয়ে আসার সাথে সাথে এবং এল নিনো পরিস্থিতির অবনতির ফলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা ২০২৬ সালের জন্য একটি ‘সুপার’ এল নিনোর পূর্বাভাস দিয়েছেন। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা, যা প্রশান্ত মহাসাগরের বিষুবরেখা বরাবর সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। এল নিনো সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পর পর দেখা দেয় এবং নয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন-এর সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত দাবানলে অভূতপূর্ব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১৫ কোটি হেক্টরের বেশি ভূমি পুড়ে গেছে, যা পূর্বের যেকোনো রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে, এই বছর বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারে। এর ফলে শুধু রেকর্ড তাপপ্রবাহই নয়, বরং ব্যাপক খরাও দেখা দিতে পারে, যা দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের দাবানল বিশেষজ্ঞ থিওডোর কিপিং বলেন, ‘এই বছর বিশ্বব্যাপী দাবানলের মৌসুম অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত শুরু হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, আফ্রিকায় এ বছর প্রায় ৮৫ মিলিয়ন হেক্টর জমি পুড়েছে, যা পূর্বের রেকর্ড ৬৯ মিলিয়ন হেক্টরের চেয়ে ২৩% বেশি। এশিয়ায় ৪ কোটি ৪০ লাখ হেক্টর জমি পুড়েছে, যা ২০১৪ সালের আগের রেকর্ড থেকে ৪০% বেশি। ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস এবং চীন এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই বছরের শেষের দিকে এল নিনোর প্রভাবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাজন রেইনফরেস্ট অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি একটি শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে চরম দাবানলের ঝুঁকি সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা গত মাসে জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট এল নিনো পরিস্থিতি চলতি মে মাসেই শুরু হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর তিস্তার পানি, নীলফামারীতে বন্যার শঙ্কা

‘সুপার এল নিনো’র পূর্বাভাস: রেকর্ড তাপপ্রবাহ ও ভয়াবহ দাবানলের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ বছর আফ্রিকা, এশিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে রেকর্ডসংখ্যক দাবানলের ঘটনা ঘটছে। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এগিয়ে আসার সাথে সাথে এবং এল নিনো পরিস্থিতির অবনতির ফলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা ২০২৬ সালের জন্য একটি ‘সুপার’ এল নিনোর পূর্বাভাস দিয়েছেন। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা, যা প্রশান্ত মহাসাগরের বিষুবরেখা বরাবর সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। এল নিনো সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পর পর দেখা দেয় এবং নয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন-এর সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত দাবানলে অভূতপূর্ব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১৫ কোটি হেক্টরের বেশি ভূমি পুড়ে গেছে, যা পূর্বের যেকোনো রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে, এই বছর বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারে। এর ফলে শুধু রেকর্ড তাপপ্রবাহই নয়, বরং ব্যাপক খরাও দেখা দিতে পারে, যা দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের দাবানল বিশেষজ্ঞ থিওডোর কিপিং বলেন, ‘এই বছর বিশ্বব্যাপী দাবানলের মৌসুম অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত শুরু হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, আফ্রিকায় এ বছর প্রায় ৮৫ মিলিয়ন হেক্টর জমি পুড়েছে, যা পূর্বের রেকর্ড ৬৯ মিলিয়ন হেক্টরের চেয়ে ২৩% বেশি। এশিয়ায় ৪ কোটি ৪০ লাখ হেক্টর জমি পুড়েছে, যা ২০১৪ সালের আগের রেকর্ড থেকে ৪০% বেশি। ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস এবং চীন এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই বছরের শেষের দিকে এল নিনোর প্রভাবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাজন রেইনফরেস্ট অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি একটি শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে চরম দাবানলের ঝুঁকি সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা গত মাসে জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট এল নিনো পরিস্থিতি চলতি মে মাসেই শুরু হতে পারে।