রাজধানীর রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই মামলায় আরেকজন যাবজ্জীবন এবং আরেকজন ২০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন।
গতকাল রোববার (নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই) এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করা হয়। মামলার রায়ে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, রামপুরা থানার তৎকালীন এসআই তরিকুল ইসলামকে যাবজ্জীবন এবং এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পঞ্চম এবং ট্রাইব্যুনাল-১-এর তৃতীয় রায় বলে জানা গেছে।
গতকাল বেলা ১২টার দিকে আইনজীবী, শহীদ পরিবারের সদস্য, বিচারপ্রার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে আদালত কক্ষ ছিল সরগরম। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার ও কর্তৃত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করেছি। সংবিধানে বলা হয়েছে, এই ট্রাইব্যুনালের বিধান অগ্রাধিকার পাবে। অনেকে এই আইনের বৈধতা ও এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কিন্তু সংবিধানই এই ট্রাইব্যুনালের অস্তিত্ব ও কার্যক্রমকে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম স্ট্যাটিউটের বিধানগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে। আসামিদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















