কুমিল্লা নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসা হকারদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে নুরুল আমিন টাওয়ার নামে একটি ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। গত শুক্রবার নগরীর উচ্ছেদ অভিযানে ওই ভবনের নিচে অন্তত ২০টি ভ্রাম্যমাণ হকারদের ভ্যান জব্দ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নজরুল এভিনিউয়ের নুরুল আমিন টাওয়ারের কেয়ারটেকার ও দারোয়ান প্রতি ভ্যান এক হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে হকারদের ব্যবসা করতে দিচ্ছিলেন, যার সঙ্গে ভবন মালিকেরও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ভবনটির হোল্ডিং নম্বর জব্দ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন প্রশাসক।
অভিযানে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, চলমান উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে নগরীর রানিরবাজার থেকে কান্দিরপাড় পর্যন্ত অবৈধ ফুটপাত দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সময় এভিনিউতে নুরুল আমিন টাওয়ারের পার্কিং থেকে অন্তত ২০টি হকারদের ভ্যান জব্দ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বিনষ্ট করা হয়েছে। সড়কের পাশে বিভিন্ন ভবনের নিচ থেকে জন ভোগান্তি সৃষ্টিকারী হকারদের ভ্যানও জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়।
প্রশাসক আরও বলেন, আমরা কারো ক্ষতি করতে চাই না। তবে কেউ যদি আইন অমান্য করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো উদারতা দেখানো হবে না। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন জানান, অবৈধভাবে ফুটপাত দখলকারীদের আশ্রয় দিয়ে ওই ভবন মালিক প্রচলিত আইনে অপরাধ করেছেন। হকারদের আশ্রয় দেওয়া ওই ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব ব্যবসার প্রতিষ্ঠানের সামনে হকারা অবস্থান নেবে, সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার কান্দিরপাড় থেকে চকবাজার মোড় পর্যন্ত অভিযানে অন্তত ৪০টি ভ্যান বিনষ্ট করা হয়। ফুটপাত দখল মুক্ত এবং যানজট নিরসনে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন।
রিপোর্টারের নাম 





















