সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের দুই একর ১৭ শতাংশ সরকারি জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই জমি দখলের সময় সীমানাপ্রাচীর ভাঙতে পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহার করা হয়েছে। এই ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বাগধনিয়া ভূমি কার্যালয়ের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জয়দুল হোসেন। মামলায় প্রায় ১৫০ জন হকারকে আসামি করা হয়েছে।
ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জয়দুল হোসেন জানান, সাভার মডেল থানার ছোট বলিমেহের মৌজায় সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত দুই একর ১৭ শতাংশ জমিতে পূর্বে টিনের সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরাও দেওয়া ছিল। গত সোমবার দুপুরে ১৪০ থেকে ১৫০ জন হকার সংঘবদ্ধভাবে সেখানে প্রবেশ করে প্রায় ১০০ ফুট টিনের প্রাচীর ভেঙে নিয়ে যায়। এতে সরকারের প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মামলায় আরো বলা হয়েছে যে, হর্টিকালচার সেন্টার ও রাজালাখ ফার্ম এলাকায় সরকারি মালিকানাধীন প্রায় ২ একর ১৭ শতাংশ জমিতে সংঘবদ্ধভাবে প্রবেশ করে হকাররা প্রায় ১০০ ফুট টিনের বাউন্ডারি ভেঙে ফেলে। এ সময় তারা অনেকগুলো টিন লুট করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা। এছাড়াও, এই ঘটনায় প্রায় ৮ লাখ টাকার সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, যখন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন, তখন অভিযুক্তরা মারমুখী আচরণ করে এবং সরকারি জমিতে ব্যবসা পরিচালনায় বাধা দিলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানিয়েছেন, সরকারি জমি দখল চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং লুট হওয়া টিন উদ্ধারের জন্য পুলিশ সদস্যরা তৎপরতার সাথে কাজ করছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পৌরসভার সরকারি বুলডোজার ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর মো. সেলিম আহম্মেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাকে ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তার জবাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির মতামতের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























