ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও ফুটবলের উন্মাদনা: গাজাবাসীর জীবন সংগ্রামের এক ভিন্ন চিত্র

ইসরায়েলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা আজ এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। চারদিকে ধ্বংসযজ্ঞ আর লাশের মিছিলের মাঝেও সেখানে থামেনি ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা। গাজার মানুষ এখন তাদের একমাত্র সম্বল মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই উপভোগ করছেন ফুটবল বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই তারা খুঁজে নিচ্ছেন এক চিলতে আনন্দ।

গাজার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদও রয়েছেন। যারা বেঁচে আছেন, তাদের জন্য ফুটবল এখন কেবল খেলা নয়, বরং টিকে থাকার প্রেরণা। ২৪ বছর বয়সী তরুণ আলি তাফেশ, যিনি চার বছর আগেও একজন স্বাভাবিক মানুষ এবং সফল অ্যাথলেট ছিলেন, এখন ক্র্যাচে ভর দিয়ে বলের পেছনে ছোটেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজ বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তিনি তার পা হারান এবং তার মা ও ভাই নিহত হন।

তাফেশ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় গাজার পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। ক্যাফেতে বসে বন্ধুদের সঙ্গে পছন্দের দলকে সমর্থন করার সেই দিনগুলো এখন শুধুই স্মৃতি। বর্তমানে প্রতিটি মুহূর্ত কাটে হামলার আতঙ্কে। তাফেশের মতো অনেক ফুটবলার এখন পঙ্গুত্ব বরণ করে গাজা আল-ইরাদা ক্লাবের হয়ে খেলছেন। তাদের আক্ষেপ, ফিলিস্তিনের ফুটবলের এই দুর্দিনে ফিফা বা আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাগুলো তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। শত বাধা সত্ত্বেও গাজার এই লড়াকু মানুষেরা ফুটবলের মাধ্যমেই বিশ্বের কাছে তাদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাহুবলে মাদকাসক্ত হয়ে পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার: যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও ফুটবলের উন্মাদনা: গাজাবাসীর জীবন সংগ্রামের এক ভিন্ন চিত্র

আপডেট সময় : ০৪:০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ইসরায়েলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা আজ এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। চারদিকে ধ্বংসযজ্ঞ আর লাশের মিছিলের মাঝেও সেখানে থামেনি ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা। গাজার মানুষ এখন তাদের একমাত্র সম্বল মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই উপভোগ করছেন ফুটবল বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই তারা খুঁজে নিচ্ছেন এক চিলতে আনন্দ।

গাজার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদও রয়েছেন। যারা বেঁচে আছেন, তাদের জন্য ফুটবল এখন কেবল খেলা নয়, বরং টিকে থাকার প্রেরণা। ২৪ বছর বয়সী তরুণ আলি তাফেশ, যিনি চার বছর আগেও একজন স্বাভাবিক মানুষ এবং সফল অ্যাথলেট ছিলেন, এখন ক্র্যাচে ভর দিয়ে বলের পেছনে ছোটেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজ বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তিনি তার পা হারান এবং তার মা ও ভাই নিহত হন।

তাফেশ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় গাজার পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। ক্যাফেতে বসে বন্ধুদের সঙ্গে পছন্দের দলকে সমর্থন করার সেই দিনগুলো এখন শুধুই স্মৃতি। বর্তমানে প্রতিটি মুহূর্ত কাটে হামলার আতঙ্কে। তাফেশের মতো অনেক ফুটবলার এখন পঙ্গুত্ব বরণ করে গাজা আল-ইরাদা ক্লাবের হয়ে খেলছেন। তাদের আক্ষেপ, ফিলিস্তিনের ফুটবলের এই দুর্দিনে ফিফা বা আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাগুলো তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। শত বাধা সত্ত্বেও গাজার এই লড়াকু মানুষেরা ফুটবলের মাধ্যমেই বিশ্বের কাছে তাদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন।