প্রায় দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) ২০২৬-২০২৭ সেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে এক নজিরবিহীন উত্তপ্ত ও মেরুকরণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের দিনক্ষণ ১৩ ও ১৪ মে নির্ধারিত হলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অ্যাডহক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় এবং সাম্প্রতিক সরকারি গেজেট অনুযায়ী দলটির সমর্থকরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য। এই সিদ্ধান্তের ফলে ৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, যাকে বারের ৭৭ বছরের ইতিহাসে একটি ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ ও ‘একতরফা প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা।
প্রার্থিতা বাতিলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং সংক্ষুব্ধ স্বতন্ত্র আইনজীবীরা একজোট হয়ে ‘ভোট বর্জনের’ ডাক দিয়েছেন। তারা সাধারণ আইনজীবীদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং এই নির্বাচনকে বারের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলে দাবি করছেন। তাদের মতে, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অধিকার খর্ব করে একতরফা জয়ের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। এই বর্জন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা নির্বাচনের নৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন, যা সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যেও এক ধরনের সংশয় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
বিপরীতে, দীর্ঘ সময় পর বারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আশায় উৎসবমুখর পরিবেশে রয়েছেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাদের প্যানেলের জয় প্রায় নিশ্চিত মনে হওয়ায় তারা পুরো সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ব্যাপক নির্বাচনী আমেজ বজায় রেখেছেন। ১২ হাজার ভোটারের এই নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে লড়াই হলেও একপক্ষের ভোট বর্জন এবং অন্যপক্ষের একক আধিপত্যের ফলে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ব্যালটে সিল মারার উৎসব, অন্যদিকে কেন্দ্র খালি রেখে নির্বাচনকে ‘অসিদ্ধ’ প্রমাণের চেষ্টা—সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার এখন আইনি ও রাজনৈতিক এক চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















