রংপুরের বদরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ভ্যানচালক আরিফুল ইসলাম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব গোপাল ব্যানার্জিকে নওগাঁ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব-১৩ এর মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ছাত্রদল নেতা গোপাল ব্যানার্জি বদরগঞ্জ উপজেলার বালুয়াভাটা গ্রামের নন্দ ব্যানার্জির ছেলে। এলাকায় তিনি ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাংয়ের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত। গত ৫ মে বদরগঞ্জ উপজেলার বালুয়াভাটা এলাকার আম্বিয়ার মোড়ে গোপাল ও তার সহযোগীরা ভ্যানচালক আরিফুল ইসলামকে চাপাতি, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা আরিফুলকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর নিহত ভ্যানচালক আরিফুল ইসলামের বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাংয়ের প্রধান ফিরোজ শাহকে মূল আসামি করা হয়। এছাড়া পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব গোপাল ব্যানার্জি, বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাটসহ মোট ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
প্রকাশ্য দিবালোকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বদরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষ মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। ঘটনার পরপরই আসামি গোপাল ব্যানার্জি আত্মগোপনে চলে যান।
র্যাব জানায়, মামলা দায়েরের পর র্যাব ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেফতারের জন্য ব্যাপক তৎপরতা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ রংপুর এবং র্যাব-৫ জয়পুরহাট যৌথভাবে নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার নিশ্চিন্ত বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের দিলীপের বসতবাড়ি থেকে হত্যা মামলার আসামি গোপাল ব্যানার্জিকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে বদরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গোপালের বিরুদ্ধে আরও তিনটি হত্যা মামলা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























