ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

কারাগারের চার দেওয়াল, বন্দি মায়ের শিশুদের শৈশব ও বেড়ে ওঠা

দেশের কারাগারগুলোতে বন্দি রয়েছেন অসংখ্য নারী, যাদের অনেকের সঙ্গেই রয়েছে তাদের ছোট ছোট সন্তান। কারা বিধি অনুযায়ী, ছয় বছরের কম বয়সী শিশুরা মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকার অনুমতি পায়। এর ফলে, কোনো অপরাধ না করেও বহু শিশুর শৈশব কাটে কারাগারের সীমাবদ্ধ পরিবেশে। স্বাধীনতা, খোলা মাঠ, স্বাভাবিক শিক্ষা এবং সামাজিক পরিবেশের মতো মৌলিক বিষয়গুলো থেকে বঞ্চিত হয়ে তারা বেড়ে ওঠে একটি নিয়ন্ত্রিত ও সীমাবদ্ধ বাস্তবতায়। তাদের খেলার জন্য নেই পর্যাপ্ত জায়গা, নেই খোলা আকাশের নিচে স্কুল জীবনের অভিজ্ঞতা; কেবলই একটি নির্ধারিত রুটিন এবং কঠোর নজরদারি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। জন্মের পর থেকেই তারা বন্দিত্বের অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে যায় এবং সেই স্মৃতি নিয়েই পরবর্তীকালে বাইরের জীবনে প্রবেশ করে। নীতিমালা অনুযায়ী, ছয় বছর বয়স পূর্ণ হলে শিশুকে বন্দি মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা হয়। কিন্তু তখন শুরু হয় এক নতুন সংকট – শিশুটির ভবিষ্যৎ কী হবে? কে নেবে তার দায়িত্ব?

অনেক ক্ষেত্রে স্বজনরা দায়িত্ব নিলেও কিছু শিশুর শেষ আশ্রয় হয় আশ্রয়কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিচ্ছিন্নতা শিশুদের মানসিক জীবনে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ জন নারী বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত। মাদক, চোরাচালান, হত্যা এবং বিভিন্ন মামলায় তারা বন্দি। এই বন্দি মায়েদের সঙ্গে ছয় বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে ২৭৯ জন।

কারাগারে প্রবেশের পর শিশুদের নাম ও বয়স রেজিস্ট্রারে নথিভুক্ত করা হয় এবং তারা মায়ের সঙ্গেই নির্ধারিত সেলে থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী, তাদের কারাগারের ডে-কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হয়। শিশুদের তত্ত্বাবধানে একজন নারী ডেপুটি জেলার থাকেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের খাবার ও প্রয়োজনীয় পথ্যের ব্যবস্থা করা হয়। ডে-কেয়ারে সীমিত পরিসরে খেলাধুলার সামগ্রীও সরবরাহ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কারা কর্মকর্তারা জানান, বন্দি নারীরা এখানে শুধু একজন কয়েদি নন, একজন মা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সন্তানের খাবার, ঘুম, অসুস্থতার সেবা—সবকিছু নিয়েই কাটে তাদের দিন। কঠোর নিয়ম ও নজরদারির মধ্যেও মাতৃত্বের অনুভূতি তাদের থেমে থাকে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমিত পরিসরে নার্সারি ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কারাগারের পরিবেশ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা, স্বামী পলাতক

কারাগারের চার দেওয়াল, বন্দি মায়ের শিশুদের শৈশব ও বেড়ে ওঠা

আপডেট সময় : ১০:৪৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

দেশের কারাগারগুলোতে বন্দি রয়েছেন অসংখ্য নারী, যাদের অনেকের সঙ্গেই রয়েছে তাদের ছোট ছোট সন্তান। কারা বিধি অনুযায়ী, ছয় বছরের কম বয়সী শিশুরা মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকার অনুমতি পায়। এর ফলে, কোনো অপরাধ না করেও বহু শিশুর শৈশব কাটে কারাগারের সীমাবদ্ধ পরিবেশে। স্বাধীনতা, খোলা মাঠ, স্বাভাবিক শিক্ষা এবং সামাজিক পরিবেশের মতো মৌলিক বিষয়গুলো থেকে বঞ্চিত হয়ে তারা বেড়ে ওঠে একটি নিয়ন্ত্রিত ও সীমাবদ্ধ বাস্তবতায়। তাদের খেলার জন্য নেই পর্যাপ্ত জায়গা, নেই খোলা আকাশের নিচে স্কুল জীবনের অভিজ্ঞতা; কেবলই একটি নির্ধারিত রুটিন এবং কঠোর নজরদারি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। জন্মের পর থেকেই তারা বন্দিত্বের অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে যায় এবং সেই স্মৃতি নিয়েই পরবর্তীকালে বাইরের জীবনে প্রবেশ করে। নীতিমালা অনুযায়ী, ছয় বছর বয়স পূর্ণ হলে শিশুকে বন্দি মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা হয়। কিন্তু তখন শুরু হয় এক নতুন সংকট – শিশুটির ভবিষ্যৎ কী হবে? কে নেবে তার দায়িত্ব?

অনেক ক্ষেত্রে স্বজনরা দায়িত্ব নিলেও কিছু শিশুর শেষ আশ্রয় হয় আশ্রয়কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিচ্ছিন্নতা শিশুদের মানসিক জীবনে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ জন নারী বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত। মাদক, চোরাচালান, হত্যা এবং বিভিন্ন মামলায় তারা বন্দি। এই বন্দি মায়েদের সঙ্গে ছয় বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে ২৭৯ জন।

কারাগারে প্রবেশের পর শিশুদের নাম ও বয়স রেজিস্ট্রারে নথিভুক্ত করা হয় এবং তারা মায়ের সঙ্গেই নির্ধারিত সেলে থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী, তাদের কারাগারের ডে-কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হয়। শিশুদের তত্ত্বাবধানে একজন নারী ডেপুটি জেলার থাকেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের খাবার ও প্রয়োজনীয় পথ্যের ব্যবস্থা করা হয়। ডে-কেয়ারে সীমিত পরিসরে খেলাধুলার সামগ্রীও সরবরাহ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কারা কর্মকর্তারা জানান, বন্দি নারীরা এখানে শুধু একজন কয়েদি নন, একজন মা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সন্তানের খাবার, ঘুম, অসুস্থতার সেবা—সবকিছু নিয়েই কাটে তাদের দিন। কঠোর নিয়ম ও নজরদারির মধ্যেও মাতৃত্বের অনুভূতি তাদের থেমে থাকে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমিত পরিসরে নার্সারি ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কারাগারের পরিবেশ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়।