আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করে ‘সোজা গুলি করার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন। রবিবার (১০ মে) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আমিনুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের একটি কথোপকথনে এমন নির্দেশনার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে”— এই ধরনের নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলে সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজারো মানুষ নিহত হন।
প্রসিকিউটর আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়, যেখানে বহু মানুষ হতাহত হন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ফাইয়াজ নামের একজনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যা পুরো বাংলাদেশকে আবেগাপ্লুত করেছিল।
মোহাম্মদপুরের এই মামলায় সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি, ইন্ডিভিজুয়াল রেসপনসিবিলিটি ও টার্গেটেড কিলিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল এবং আগামী ৮ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। এর আগে, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও তৎকালীন সিটি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রিপোর্টারের নাম 


















