আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মহাসড়কটির ছয় লেনে উন্নীতকরণের চলমান কাজ, ধীরগতি, যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি এবং অবৈধ যানবাহনের অবাধ চলাচল ঈদযাত্রাকে নরকযন্ত্রণায় পরিণত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে সড়কের এক পাশ বন্ধ রেখে কাজ চলা এবং নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার ফলে যান চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি এবং উল্টো পথে চলা যানবাহনের বেপরোয়া দাপট, যা দূরপাল্লার বাসের গতি কমিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করছে।
মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যেমন—কাঁচপুর, ভুলতা, গাউছিয়া এবং নরসিংদীর মাধবদী, ভেলানগর ও ইটাখোলায় অবৈধ স্ট্যান্ড ও বাজারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। অনেক জায়গায় বিকল্প রাস্তাগুলো অত্যন্ত সরু ও খানাখন্দে ভরা, যা বৃষ্টি হলে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি অটোরিকশা মহাসড়কের মাঝখানে ঢুকে পড়লে পুরো লেনের গতি থমকে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঈদুল আজহায় ঢাকা থেকে মানুষের বাড়ি ফেরার চাপের পাশাপাশি পশুবাহী ট্রাকের যাতায়াত সামাল দেওয়া হবে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। বুয়েটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান এই বিশৃঙ্খলার জন্য আইন প্রয়োগের দুর্বলতা এবং অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক জানিয়েছেন, জনবল বৃদ্ধি, অবৈধ উচ্ছেদ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কাজ শুরু হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ সমন্বিতভাবে টহল দিচ্ছে এবং ঠিকাদারদের অনুরোধ করা হয়েছে বিকল্প রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার করতে। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা; যেখানে সংস্কার কাজের নামে বছরের পর বছর ভোগান্তি এবং মহাসড়কে ছোট যানবাহনের দাপট কমানো না গেলে সাধারণ মানুষের ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















