গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি ভাড়া বাসায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ফোরকান মোল্লাকে (৪০) প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও তিন-চার জন অজ্ঞাত আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় নিহত শারমিন খানমের বাবা শাহাদাত মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় এই মামলাটি করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি শুক্রবার (৮ মে) রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের ওই ভাড়া বাসায় ঘটে। হত্যাকাণ্ডের শিকার পাঁচজন হলেন—ফোরকান মোল্লার স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তাদের তিন মেয়ে মীম খানম (১৪), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (দেড় বছর) এবং শারমিনের ভাই রসুল মোল্লা (১৮)। ঘটনার পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান পলাতক রয়েছেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, ‘মামলায় শারমিন খানমের স্বামী ফোরকানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ফোরকানকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।’
ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, নিহত তিন শিশুর লাশ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের লাশ বিছানার ওপর পাওয়া যায়। শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। সকলের শরীরেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা থেকে বোঝা যায় ভারী কোনো অস্ত্র দিয়ে তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর আগে ফোরকান ও শারমিনের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের কয়েক বছর পর তারা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। গত জানুয়ারি মাসে তারা কাপাসিয়ায় এসে এই ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন। ফোরকান প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসার চালাতেন এবং তার শ্যালক রসুল গাজীপুর সদরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ঘটনার পর থেকে ফোরকান পলাতক। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ফোরকানকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে।
রিপোর্টারের নাম 



















