ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য নিয়ে নবী হোসেনের ভাইকে গুলি করে হত্যা

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ কামালকে (৩৫) গুলি করে হত্যা করেছে রোহিঙ্গাদের আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। বুধবার বেলা ২টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৮ পশ্চিম বি-ব্লকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ কামাল ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং তিনি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের ছোট ভাই ও বি-৪১ ব্লকের মাঝির দায়িত্বে ছিলেন।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী কামালকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে বুকে ও মাথায় গুলি লেগে তার মৃত্যু হয়। যারা গুলি করেছে তাদের শনাক্ত করা যায়নি। তবে আগের দিনের একটি ঘটনার জেরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা। এ ঘটনার পর ক্যাম্পে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

নিহতের স্ত্রী জানান, জোহরের নামাজ শেষে ইজিবাইকযোগে বাড়ি ফেরার পথে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। রোহিঙ্গাদের আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এ ঘটনায় জড়িত। নিহতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ‘ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কামালের বিরোধ চলছি। তার জেরে ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে।’ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কামালকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। সংঘর্ষে জড়াচ্ছে মিয়ানমারের একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী। ঘর থেকে তুলে নিয়ে গুলি কিংবা কুপিয়ে হত্যার ঘটনাও রয়েছে। এই সবকিছুর মূলে নবী হোসেনকে (৪৮) দায়ী করছেন রোহিঙ্গা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। রোহিঙ্গা নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, নবীর হাত ধরেই ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথের (আইস) বড় বড় চালান ঢুকছে উখিয়া ও টেকনাফে। ক্যাম্পগুলোতে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার ইয়াবা ও আইস ঢুকছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ ইয়াবার কারবার নবী হোসেন বাহিনীর কবজায়। নবী হোসেনের এই কারবারে সহযোগিতা দেয় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (ARSA)।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসপাতালে স্ত্রীর মৃত্যু, গয়না নিয়ে উধাও স্বামী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য নিয়ে নবী হোসেনের ভাইকে গুলি করে হত্যা

আপডেট সময় : ১০:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ কামালকে (৩৫) গুলি করে হত্যা করেছে রোহিঙ্গাদের আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। বুধবার বেলা ২টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৮ পশ্চিম বি-ব্লকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ কামাল ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং তিনি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের ছোট ভাই ও বি-৪১ ব্লকের মাঝির দায়িত্বে ছিলেন।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী কামালকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে বুকে ও মাথায় গুলি লেগে তার মৃত্যু হয়। যারা গুলি করেছে তাদের শনাক্ত করা যায়নি। তবে আগের দিনের একটি ঘটনার জেরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা। এ ঘটনার পর ক্যাম্পে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

নিহতের স্ত্রী জানান, জোহরের নামাজ শেষে ইজিবাইকযোগে বাড়ি ফেরার পথে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। রোহিঙ্গাদের আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এ ঘটনায় জড়িত। নিহতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ‘ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কামালের বিরোধ চলছি। তার জেরে ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে।’ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কামালকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। সংঘর্ষে জড়াচ্ছে মিয়ানমারের একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী। ঘর থেকে তুলে নিয়ে গুলি কিংবা কুপিয়ে হত্যার ঘটনাও রয়েছে। এই সবকিছুর মূলে নবী হোসেনকে (৪৮) দায়ী করছেন রোহিঙ্গা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। রোহিঙ্গা নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, নবীর হাত ধরেই ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথের (আইস) বড় বড় চালান ঢুকছে উখিয়া ও টেকনাফে। ক্যাম্পগুলোতে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার ইয়াবা ও আইস ঢুকছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ ইয়াবার কারবার নবী হোসেন বাহিনীর কবজায়। নবী হোসেনের এই কারবারে সহযোগিতা দেয় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (ARSA)।