ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা: সংকট ও দায়বদ্ধতার স্বরূপ

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেখানে দায়বদ্ধতার এক ধরনের সংকট পরিলক্ষিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে অর্ধশতাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪৭ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, যাদের ঘিরে রাষ্ট্র ও সমাজের রয়েছে বিশাল প্রত্যাশা।

প্রতি বছর তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। রাষ্ট্র এই শিক্ষার্থীদের পেছনে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীপ্রতি বার্ষিক রাষ্ট্রীয় ব্যয় ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই বিশাল বিনিয়োগের সুফল পেতে হলে কেবল অবকাঠামো নয়, বরং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবস্থান এবং পেশাদারিত্বের উন্নয়ন জরুরি।

উচ্চশিক্ষার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের বিপরীতে একটি মৌলিক প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে—বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা উত্তীর্ণ হচ্ছেন, তারা কি যথাযথ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সক্ষম হচ্ছেন? উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই দায়বদ্ধতার জায়গাটি আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইপিএলের মেগা ফাইনাল আহমেদাবাদে, চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করল বিসিসিআই

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা: সংকট ও দায়বদ্ধতার স্বরূপ

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেখানে দায়বদ্ধতার এক ধরনের সংকট পরিলক্ষিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে অর্ধশতাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪৭ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, যাদের ঘিরে রাষ্ট্র ও সমাজের রয়েছে বিশাল প্রত্যাশা।

প্রতি বছর তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। রাষ্ট্র এই শিক্ষার্থীদের পেছনে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীপ্রতি বার্ষিক রাষ্ট্রীয় ব্যয় ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই বিশাল বিনিয়োগের সুফল পেতে হলে কেবল অবকাঠামো নয়, বরং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবস্থান এবং পেশাদারিত্বের উন্নয়ন জরুরি।

উচ্চশিক্ষার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের বিপরীতে একটি মৌলিক প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে—বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা উত্তীর্ণ হচ্ছেন, তারা কি যথাযথ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সক্ষম হচ্ছেন? উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই দায়বদ্ধতার জায়গাটি আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।