বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু তিস্তা নদীর পানিবণ্টন। আন্তর্জাতিক এই নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে একটি স্থায়ী চুক্তির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ২০১১ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত হলেও পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের আভাস পাওয়ায় তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল দুই দেশ। সেই খসড়া অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের ৩৭.৫ শতাংশ এবং ভারতের ৪২.৫ শতাংশ পানি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মমতার আপত্তিতে চুক্তিটি স্থগিত হয়ে যায়। এরপর থেকে বারবার আলোচনা হলেও পশ্চিমবঙ্গের অনড় অবস্থানের কারণে কোনো সমাধান আসেনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু চুক্তির বিরোধিতাই করেননি, বরং তিস্তায় পর্যাপ্ত পানি নেই বলে দাবি করে বিশেষজ্ঞ প্যানেল দিয়ে একাধিক প্রতিবেদন তৈরি করান। এমনকি তিনি তিস্তার বিকল্প হিসেবে তোর্সা ও জলঢাকা নদীর পানি ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালেও তিনি এই ইস্যুতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটি উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের বিশাল এলাকা এই নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা এখন তাকিয়ে আছেন—এবার কি শেষ পর্যন্ত তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত হবে?
রিপোর্টারের নাম 























