নিবন্ধনহীন অনলাইন পোর্টাল, ইউটিউব এবং ফেসবুকে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে সৃষ্ট অস্থিরতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে। অপসাংবাদিকতা রুখতে এবং গণমাধ্যমের গুণগত মান বজায় রাখতে এই সংক্রান্ত নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করার সুপারিশ করেছে মাঠ প্রশাসন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য-অধিবেশনে এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন। তার মতে, বর্তমানে নিবন্ধনহীন বিভিন্ন মাধ্যম মানহীন ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি অনলাইন মিডিয়াগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনা যায়, তবে পেশাদার সাংবাদিকতা উৎসাহিত হবে এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগও এই প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেছে।
সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। রাজবাড়ীর ডিসি জেলা পর্যায়ে ‘আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা জেলার ‘ইনফরমেশন হাব’ হিসেবে কাজ করবে এবং সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে। এছাড়া রাজশাহীর ডিসি বিভাগীয় পর্যায়ে স্বতন্ত্র বিভাগীয় তথ্য অফিস স্থাপন এবং প্রচার কার্যক্রম গতিশীল করতে আধুনিক প্রচার গাড়ি ও সিনেমা ভ্যান সংযোজনের প্রস্তাব করেছেন। এর মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি দুর্যোগে দ্রুত বার্তা পৌঁছানো সহজ হবে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে রাজশাহী বেতার কেন্দ্রের জন্য বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক সম্প্রচার ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ১৯৬২ সালে নির্মিত বর্তমান ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্টুডিও সংকটসহ নানা সমস্যায় আধুনিক অনুষ্ঠান নির্মাণ ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে ঠাকুরগাঁও বেতার কেন্দ্রের বিদ্যমান জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে পাঁচতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব এসেছে। ১৯৮৮ সালের আগে নির্মিত এই ভবনটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এবং পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার খাতের এই সংস্কার ও উন্নয়ন প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন অপসাংবাদিকতা রোধ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সরকারি প্রচার কার্যক্রম আরও জনমুখী ও গতিশীল হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
রিপোর্টারের নাম 

























