সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। এই রিটে ড. ইউনূস সরকারের সময়ে প্রণীত বিভিন্ন আইন, গঠিত সংস্কার কমিশন এবং দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখারও আর্জি জানানো হয়েছে।
জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আজ সোমবার (৪ মে) আইনজীবী মুহসিন রশিদ নিজেই রিট দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রিটে এই সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে একটি কমিশন গঠন করে অনুসন্ধান চালানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ড. ইউনূস সরকারের শপথ গ্রহণ এবং গঠন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে এই একই আইনজীবী একটি রিট দায়ের করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেই রিটটি পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপতির সুপ্রিম কোর্ট রেফারেন্সের (সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ) ওপর ভিত্তি করে এই রায় দিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তখন সর্বোচ্চ আদালত মতামত দিয়েছিল যে, সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের নিয়োগ দিতে পারবেন। এবার সেই সরকারের গৃহীত নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সংস্কারমূলক কাজগুলোর বৈধতা নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হলো।
রিপোর্টারের নাম 

























