ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

সাড়ে ৪০০ বছরের স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন: কুড়িগ্রামের ঐতিহাসিক চান্দামারী মসজিদ

বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাস আর ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন চান্দামারী মসজিদ। প্রায় সাড়ে ৪০০ বছরের পুরনো এই স্থাপনাটি কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। চুন, ইট ও সুরকির নিপুণ কারুকাজে নির্মিত এই মসজিদটি আজও তার প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী দিয়ে পর্যটক ও গবেষকদের মুগ্ধ করে চলেছে।

উপজেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে চান্দামারী মণ্ডলপাড়া গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদটি ৫১ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ ২২ ফুট। মসজিদের ছাদে থাকা তিনটি বিশাল গম্বুজ এবং চার কোণের চারটি মিনার এর সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়াও বড় গম্বুজগুলোর আশেপাশে আরও ১৬টি ছোট গম্বুজ রয়েছে, যা এর নির্মাণশৈলীর অনন্যতা ফুটিয়ে তোলে। মসজিদের প্রবেশপথে থাকা তিনটি খিলান আকৃতির দরজা এবং দেয়ালের সূক্ষ্ম নকশা প্রাচীন কারিগরদের দক্ষতার পরিচয় দেয়।

একসময় মসজিদের চারপাশে বিশাল খোলা প্রান্তর ও গভীর বন থাকলেও সময়ের আবর্তে সেখানে গড়ে উঠেছে জনবসতি। তবে মসজিদের মূল কাঠামো এবং এর সামনের বড় পুকুরটি আজও অপরিবর্তিত রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি কেবল একটি ইবাদতখানা নয়, বরং তাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীন এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি রক্ষায় যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১২৬১

সাড়ে ৪০০ বছরের স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন: কুড়িগ্রামের ঐতিহাসিক চান্দামারী মসজিদ

আপডেট সময় : ০১:০৩:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাস আর ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন চান্দামারী মসজিদ। প্রায় সাড়ে ৪০০ বছরের পুরনো এই স্থাপনাটি কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। চুন, ইট ও সুরকির নিপুণ কারুকাজে নির্মিত এই মসজিদটি আজও তার প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী দিয়ে পর্যটক ও গবেষকদের মুগ্ধ করে চলেছে।

উপজেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে চান্দামারী মণ্ডলপাড়া গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদটি ৫১ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ ২২ ফুট। মসজিদের ছাদে থাকা তিনটি বিশাল গম্বুজ এবং চার কোণের চারটি মিনার এর সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়াও বড় গম্বুজগুলোর আশেপাশে আরও ১৬টি ছোট গম্বুজ রয়েছে, যা এর নির্মাণশৈলীর অনন্যতা ফুটিয়ে তোলে। মসজিদের প্রবেশপথে থাকা তিনটি খিলান আকৃতির দরজা এবং দেয়ালের সূক্ষ্ম নকশা প্রাচীন কারিগরদের দক্ষতার পরিচয় দেয়।

একসময় মসজিদের চারপাশে বিশাল খোলা প্রান্তর ও গভীর বন থাকলেও সময়ের আবর্তে সেখানে গড়ে উঠেছে জনবসতি। তবে মসজিদের মূল কাঠামো এবং এর সামনের বড় পুকুরটি আজও অপরিবর্তিত রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি কেবল একটি ইবাদতখানা নয়, বরং তাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীন এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি রক্ষায় যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।