পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও খোদাভীতির এক অনন্য মহিমা নিয়ে আসে। এই উৎসবের মূল অনুষঙ্গ হলো কোরবানি, যা কেবল পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান ত্যাগের স্মৃতি বহন করে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, ‘অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো’ (সুরা কাওসার, আয়াত: ২)।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত, যা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক বা সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। হাদিস শরিফে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)।
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নেসাব বা সম্পদের পরিমাণ নির্ধারিত রয়েছে। ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিমের কাছে যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। যদি কারও কাছে সোনা বা রুপা পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে, তবে উভয়টি মিলে কিংবা নগদ টাকা ও ব্যবসায়িক পণ্যের মূল্য একত্রে যদি সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের হয়, তাহলেও তাকে কোরবানি দিতে হবে।
উল্লেখ্য যে, কোরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে যাকাতের মতো সম্পদের ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। বরং কোরবানির নির্ধারিত দিনগুলোতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়। স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ, বাৎসরিক খোরাকির বাইরে অতিরিক্ত জমি এবং অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র—সবই নেসাবের আওতায় গণ্য হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























