ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য ও বঞ্চনা: শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন কি অধরাই রয়ে যাবে?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

মে দিবস বা শ্রমিক সংহতি দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলো বারবার ফিরে এলেও দেশের প্রান্তিক ও পেশাদার কর্মীদের জীবনে বঞ্চনার চিত্রটি আজও অপরিবর্তিত। কুড়িগ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কর্মরত নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের মধ্যে বিদ্যমান মজুরি বৈষম্য এর একটি বাস্তব উদাহরণ। সেখানে দেখা গেছে, একই পরিশ্রমে একজন নারী শ্রমিক পাচ্ছেন ৪০০ টাকা, যেখানে পুরুষ শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা। কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়ার ভয়ে অনেক সময় মুখ খোলার সাহসও পান না এই শ্রমজীবীরা। অথচ কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় নারীদের শ্রমের পরিমাণ পুরুষদের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়।

বঞ্চনার এই চিত্র কেবল অসংগঠিত খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষিত পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও এটি প্রকট। খালেদা নামের একজন অভিজ্ঞ সিনিয়র সেবিকার গল্পটি তেমনই এক উদাহরণ। একটি নামকরা হাসপাতালে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তিনি বেতন বৈষম্যের শিকার হন। অন্য হাসপাতাল থেকে আসা কর্মীদের তুলনায় তার বেতন ছিল অনেক কম। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের চাকরিটিই হারাতে হয় তাকে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কম বেতনে নতুন কর্মী নিয়োগের সুযোগ থাকায় অভিজ্ঞ কর্মীর ন্যায্য দাবির কোনো মূল্যায়ন সেখানে হয়নি।

শিক্ষা খাতের চিত্রটিও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। দিলারা নামের এক শিক্ষক একটি নন-এমপিও স্কুলে চার বছর ধরে কর্মরত। মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো একটি মৌলিক অধিকার ভোগ করতে গিয়ে তাকে চরম দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়েছে। তিন মাসের ছুটি মিললেও সেই সময়কার কোনো বেতন তিনি পাবেন না—এমন শর্তেই তাকে চাকরি চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক নিরাপত্তার এই অভাব দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এক বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণরায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে সিলেটে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ ২৫ জুলাই

কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য ও বঞ্চনা: শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন কি অধরাই রয়ে যাবে?

আপডেট সময় : ১২:১৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

মে দিবস বা শ্রমিক সংহতি দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলো বারবার ফিরে এলেও দেশের প্রান্তিক ও পেশাদার কর্মীদের জীবনে বঞ্চনার চিত্রটি আজও অপরিবর্তিত। কুড়িগ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কর্মরত নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের মধ্যে বিদ্যমান মজুরি বৈষম্য এর একটি বাস্তব উদাহরণ। সেখানে দেখা গেছে, একই পরিশ্রমে একজন নারী শ্রমিক পাচ্ছেন ৪০০ টাকা, যেখানে পুরুষ শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা। কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়ার ভয়ে অনেক সময় মুখ খোলার সাহসও পান না এই শ্রমজীবীরা। অথচ কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় নারীদের শ্রমের পরিমাণ পুরুষদের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়।

বঞ্চনার এই চিত্র কেবল অসংগঠিত খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষিত পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও এটি প্রকট। খালেদা নামের একজন অভিজ্ঞ সিনিয়র সেবিকার গল্পটি তেমনই এক উদাহরণ। একটি নামকরা হাসপাতালে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তিনি বেতন বৈষম্যের শিকার হন। অন্য হাসপাতাল থেকে আসা কর্মীদের তুলনায় তার বেতন ছিল অনেক কম। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের চাকরিটিই হারাতে হয় তাকে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কম বেতনে নতুন কর্মী নিয়োগের সুযোগ থাকায় অভিজ্ঞ কর্মীর ন্যায্য দাবির কোনো মূল্যায়ন সেখানে হয়নি।

শিক্ষা খাতের চিত্রটিও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। দিলারা নামের এক শিক্ষক একটি নন-এমপিও স্কুলে চার বছর ধরে কর্মরত। মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো একটি মৌলিক অধিকার ভোগ করতে গিয়ে তাকে চরম দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়েছে। তিন মাসের ছুটি মিললেও সেই সময়কার কোনো বেতন তিনি পাবেন না—এমন শর্তেই তাকে চাকরি চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক নিরাপত্তার এই অভাব দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এক বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।